নরসিংদীতে ১ বছরের শিশুপুত্রকে মেঝেতে আচড়ে, বুকে পা দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সুমন মিয়া (২৬) নামের এক পাষণ্ড বাবা। তিনি তার জবানবন্দিতে নিজের ছেলেকে রাগের বশে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন। আজ (মঙ্গলবার) বিকালের আদালতে তিনি এইসব কথা বলেন।
এর আগে সোমবার বিকালে সদর উপজেলার নগর বানিয়াদী গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই দিন বিকেলেই অভিযুক্ত সুমন মিয়াকে পার্শ্ববর্তী একটি বাজার থেকে আটক করে পুলিশ। পরে ওই রাতেই সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে নরসিংদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন তাঁর স্ত্রী ও শিশুটির মা মিতু বেগম।
সুমন মিয়া এলাকায় লরিতে করে ইট পরিবহনকাজের একজন হেলপার। তিনি প্রায়ই স্থানীয় বখাটেদের সঙ্গে গাঁজা সেবন করতেন বলে পরিবার ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই সুমন মিয়া ও মিতু বেগমের মধ্যে ঝগড়াবিবাদ লেগেই থাকত। গতকাল (সোমবার) দুপুরে কাজ থেকে ফেরার পর ভাত দিতে দেরি হওয়ায় মিতুর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ছিলেন সুমন। ওই সময়ই ঘুমন্ত শুভ (১) জেগে ওঠে প্রচণ্ড কান্নাকাটি করতে থাকে। এ সময় শিশুটির বাবা রেগে গিয়ে শিশুটিকে খাট থেকে হাতে তুলে নিয়ে ছুড়ে ফেলেন ঘরের মেঝেতে। পরে বুকে পা দিয়ে চেপে ধরেন তিনি। রক্তে ওই শিশুর নাক-মুখ ভেসে যায়। পরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিশুর মা মিতু বেগম বলেন, ‘আমার চোখের সামনেই আমার বাচ্চাকে মেঝেতে ছুড়ে ফেলে বুকে পা চেপে ধরেন তার বাবা সুমন মিয়া। আমার একমাত্র সন্তান হত্যার বিচার চাই আমি।’
নরসিংদী মডেল থানার ওসি সৈয়দুজ্জামান জানান, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত সুমন মিয়াকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।
বার্তাবাজার/এসজে