নারী চেয়ারম্যানের শ্লীলতাহানি, প্রতিমন্ত্রীর এপিএস-ভাগিনার বিরুদ্ধে মামলা

যশোরের এক নারী উপজেলা চেয়ারম্যানের শ্লীলতাহানি, কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি, গালিগালাজ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে স্থানীয় সরকার ‍প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের ভাগিনা, এপিএসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মনিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম এই মামলা দায়ের করেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) মনিরামপুর আমলী আদালতের বিচারক বাদীর অভিযোগ গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল লতিফ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- মণিরামপুরের ঝাঁপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল হক মন্টু, ভোজগাতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক, মণিরামপুর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জলি আক্তার, মণিরামপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু ও মণিরামপুরের মৃত ইব্রাহিম খানের ছেলে কবীর খান। উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু যশোর-৫ আসনের এমপি ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের ভাগনে। কবির খান প্রতিমন্ত্রীর এপিএস।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২২ জুলাই মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির প্রধান উপদেষ্টা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য ও বাদী উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রথমে বাদী পৌর এলাকায় চারটি প্রতিষ্ঠানে চুরি সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করলে প্রশাসন এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় প্রতিমন্ত্রীসহ সবাই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হঠাৎ সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানমের ছেলে ফেসবুকে জনপ্রতিনিধিদের কটাক্ষ করে স্ট্যাটাস দিয়েছে বলে অভিযোগ এনে বিচার দাবি করেন ঝাঁপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল হক মন্টু।

এটি এজেন্ডা-বহির্ভূত বিষয় হলেও বাদী যুক্তিসঙ্গত জবাব দেন। এরপর পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে সভায় হট্টগোল শুরু করে জামার হাতা গুটিয়ে বাদীকে গালিগালাজ ও মারপিট করতে যান মামলার আসামিরা। আসামিদের অপতৎপরতা বুঝতে পেরে বাদী দ্রুত মিলনায়তন ত্যাগ করেন। সেই সঙ্গে পাশে থাকা জিপ গাড়িতে ওঠার সময় আসামিরা পেছনে পেছনে গিয়ে অশ্লীল ভাষায় বাদীকে গালিগালাজ করতে থাকেন। কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি, এমনকি বাদীর পরনের কাপড় ধরে টানাটানি করে শ্লীলতাহানি ঘটায় আসামিরা।

এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিদের এমন কর্মকাণ্ডে উপস্থিত লোকজনের সামনে বাদী অপমাণিত ও ভীষণভাবে লজ্জা পেয়েছেন। টানাহেঁচড়ার একপর্যায়ে বাদীর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে মূল্যবান কাগজপত্র ও একটি মোবাইল ফোন পড়ে যায়। তিন নম্বর আসামি মোবাইল ফোন ও মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে যান। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে থাকায় দুর্নীতিবাজ আসামিরা বাদীকে হেনস্তা করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর