সিঙ্গাইরে বন্যায় তলিয়ে গেছে ৩শ’ ৫০ হেক্টর জমির পেঁপে

মহামারী করোনায় নিম্ন আয়ের মানুষ যখন কৃষিকাজকে বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন করেছে তখনই আগাম বন্যায় সিঙ্গাইরের পেঁপে চাষীদের যেনো মরার উপর খাঁড়ার ঘা।

বন্যার পানিতে পেঁপে ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় চাষীদের তলিয়ে গেছে হৃদয়ে বুনা স্বপ্ন। অনেক বছর পর সিঙ্গাইরে বর্ষার পানি ঢুকে ভাসিয়ে দিলো কৃষকের ধান, শাক-সবজি, পেঁপেসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত। কৃষকের গুনতে হলো লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি।

পেঁপে চাষে সিঙ্গাইরের চাষীরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান এবং মাটি পেঁপে চাষের উপযোগী হওয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে পেঁপে চাষ। উপজেলায় এবছর সবজি চাষের ১৮ শত হেক্টর ফসলের মধ্যে প্রায় ৩ শত ৫০ হেক্টর জমিতে হয়েছিল পেঁপে চাষ। আশানুরুপ ফলনও হয়েছিল জমিতে। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া পেঁপে চাষীদের চোখে অমাবস্যার অন্ধকার। উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভার নিম্ন এলাকাসহ প্রায় সব এলাকাই বন্যায় প্লাবিত।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার সব অঞ্চলে পেঁপে চাষ হয়েছিলো। অনেক অঞ্চলে শতভাগ তলিয়ে গেছে আবার কিছু অঞ্চলে ৯৫ ভাগ পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে নষ্ট হয়েগেছে। এতে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

এব্যাপারে জয়মন্টপ ইউনিয়নের পূর্ব ভাকুমের কৃষক মোঃ আব্দুল্লাহ সিকদার বলেন, ধল্লা ইউনিয়নের ভাটিরচর এলাকায় আমি ৭ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করেছিলাম। ভালো ফলন হওয়ায় এবছর প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকার পেঁপে বিক্রি করতাম। বন্যার পানিতে সবই শেষ। জমির খরচ, কামলা, সার-বিষসহ আমার অনেক লোকসান হয়েগেলো।

কৃষক রফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে উপার্জন বন্ধ হওয়ায় শেষ সম্বল ছিলো গরু আর পেঁপে। গরুর বাজার নিম্নমুখী আর বন্যায় পেঁপে ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছি। সন্তান নিয়ে হতাশায় দিন কাটছে। আমি ৩ বিঘা পেঁপে চাষ করেছিলাম পূর্ব ভাকুম নদীর উত্তর চকে। দেউলি গ্রামের হাবিবুর রহমান জানান, ২ বিঘা পেঁপে ও ৫ বিঘা বিভিন্ন সবজি চাষ করেন তিনি। তার সব ফসল তলিয়ে যাওয়ায় হতাশায় আছেন। তার ছাড়াও অন্য কৃষকেরও একই অবস্থা।

এছাড়াও পূর্ব ভাকুম চকে বাদশা মিয়া ৫ বিঘা, খালেক ফকির ৫ বিঘা, সালাম ফকির ৭ বিঘা, শাহজাহান ৫ বিঘাসহ আরো অনেকেই পেঁপে চাষ করেছিলেন। জায়গীর চকে আবুল কালামের ২ বিঘা, নুরু গোয়ালের ৫ বিঘাসহ প্রায় ২০-২২ বিঘা পেঁপেসহ ফসল, ভাটিরচর ফজর আলীর ৫ বিঘা, শিহাবের ৪ বিঘা, জয়মন্টপের বোরহান ফকিরের ১০ বিঘা ও এক কৃষকের প্রায় ৩২ বিঘা পেঁপেসহ ফসল তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এব্যপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ টিপু সুলতান স্বপন বলেন, এবছর উপজেলায় মোট সবজি চাষ হয়েছিল প্রায় ১৮ শত হেক্টর। যার মধ্যে পেঁপে প্রায় ৩ শত ৫০ হেক্টর এবং বাকি জমিতে অন্যান্ন সবজি। বন্যার পানিতে সব ফসলই তলিয়ে গেছে। কোন কোন এলাকায় ২ ভাগ জমির ফসল থাকলেও তলিয়ে যাবে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকার বিভিন্ন বাজারে যেত সিঙ্গাইরের সবজি।

তিনি আরো বলেন, বন্যা পরবর্তী সরকারের যে কৃষি প্রণোদনা আছে ইউনিয়ন পরিষদের অগ্রাধিকার তালিকা অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা করবো এবং দীর্ঘমেয়াদি ফসলের পরামর্শ দিবো।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর