মো.রায়হান কবিরের জন্ম এবং বড় হওয়া দুটোই নারায়ণগঞ্জের কদমরসূল অঞ্চলের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহী মসজিদ এলাকায়। বাবা শাহ্ আলম ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীর এবিএফ নিটওয়্যার নামে একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ছোট বোন আর মা-বাবাকে নিয়ে রায়হানের পরিবার।
ছোট বোন মেহেরুন মেহের স্থানীয় ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী। ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন রায়হান। ছোট বয়স থেকেই যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন সরব। উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে স্টুডেন্ট ভিসায় মালয়েশিয়া পাড়ি জমান।
পড়ালেখার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করতেন। সেখান থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে গত ঈদুল ফিতরের আগে একটি কোম্পানিতে স্থায়ী চাকরি হয় তার। গ্রেপ্তারের আগে সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার হোয়াটসঅ্যাপে ছেলের সঙ্গে কথা হয় রায়হানের বাবা-মা’য়ের। বিদেশি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারের বিষয়টি জানতো পরিবার। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তারা। ছেলের গ্রেপ্তারের খবর শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মা রাশিদা। ছেলের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা মো. শাহ্ আলম।
তিনি বলেন, পড়ালেখায় ভালো ছিল রায়হান। অন্যায়কে কখনো প্রশ্রয় দেয়নি। যেখানে অন্যায় দেখেছে সেখানেই প্রতিবাদ করেছে। রায়হান ধূমপান পছন্দ করতো না। মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিল। মানুষের বিপদে রাত-দিন চিন্তা না করেই ঝাঁপিয়ে পড়তো। আমার একটি মুদির দোকান ছিল। দোকানে অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে সিগারেট বিক্রির বিষয়টি ভালো লাগেনি রায়হানের।
ছেলের কথায় সিগারেট বিক্রি বন্ধ করে দেই। জীবিকা নির্বাহে পরবর্তীতে চাকরি নেয় স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায়। ছোটবেলা থেকেই অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতো। মানুষের ভালো চেয়েছে সবসময়। এলাকায় কাকে রক্ত দিতে হবে, কার সন্তান স্কুলে ভর্তি হতে পারেনি নিজে দায়িত্ব নিয়ে এসব কাজ করতো। নিজের বই, অর্থ দিয়ে সাহায্য করতো শিক্ষার্থীদের।
এলাকায় মাদক চোরাকারবারের বিরুদ্ধে দারুণ সোচ্চার ছিল। গরিব শিক্ষার্থীদের বিনা পয়সায় প্রাইভেট পড়াতো। নিজের ছেলে বলে বলছি না। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। আমার ছেলে কোনো অন্যায় করেনি। সে সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলেছে। স্থানীয়দের মাঝে প্রতিবাদী তরুণ হিসেবে পরিচিত ছিল রায়হান। দেশে থাকাবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।
শাহ আলম বলেন, ছেলের গ্রেপ্তারের খবর শুনে ওর মা রাশিদা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে। সেটা এখন অনেক বেড়ে গেছে। তার অবস্থা এখন সংকটাপন্ন। রায়হানের মা রাশিদা বেগম বলেন, গত বৃহস্পতিবার রায়হানের সঙ্গে কথা হয়। এসময় সে বলে, ‘মা আমি যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারি।
আপনি একদম ঘাবড়াবেন না। মনে সাহস রাখবেন। আপনার ছেলে দেশের সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলে প্রতিবাদ করেছে।’ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেহেতু বিষয়টি দেখছে তাই রায়হান প্রসঙ্গে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
কেএস/বার্তাবাজার