করোনাকালে আসন্ন ঈদুল আজহার কোরবানীর পশুর চামড়া আরও কমিয়ে বর্তমান দামের অর্ধেক করার পক্ষে ট্যানারি মালিকরা। করোনা মহামারীতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি কমে যাওয়া, কাঁচা চামড়া কিনতে নগদ টাকার সংকট, তীব্র গরমে সংরক্ষণের প্রক্রিয়াকালে চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাইয় তারা এই দাবী জানাবেন।
রোববার (২৬ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে চামড়ার দর প্রস্তাব তুলে ধরবেন ব্যবসায়ীরা।
গতবারের চেয়ে বর্গফুট প্রতি ২০-২৫ টাকা করে দাম কমাতে চান তারা। এক্ষেত্রে দামটাকে তারা তিন স্থরে নির্ধারণ করতে চান। তাদের প্রস্তাবিত দাম নির্ধারণ হলে ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে কাঁচা চামড়ার দাম হবে সর্বনিম্ন।
ট্যানারি মালিক ও আড়ৎদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে ট্যানারি মালিকরা চামড়ার দাম কমানোর বিষয়ে দেশের ও আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া খাতের দুরাবস্থার চিত্র তুলে ধরবেন। তারা এবার প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ঢাকায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা ও ঢাকার বাইরে উত্তরাঞ্চলের জন্য ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং দক্ষিণাঞ্চল বিশেষ করে চট্টগ্রামের জন্য ১৫ থেকে ২০ টাকা করার প্রস্তাব করবেন।
গত বছর এ দর ছিল যথাক্রমে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ও ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এ বছর করোনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কম ও পর্যাপ্ত মজুত থাকায় দাম কমানোর প্রস্তাব দেবেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে সারাদেশে খাসির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা, বকরির চামড়া ৭ থেকে ১০ টাকা এবং মহিষের চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা ধরা হতে পারে। গত বছর খাসির চামড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা ছিল।
ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে প্রতিবছরই কাঁচা চামড়ার দাম কমিয়েছে সরকার। ২০১৪ সালের ৭৫ টাকা বর্গফুটের চামড়া ২০১৯ সালে নেমে এসেছে ৪৫ টাকায়। এ বছর তা ৩০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। কিন্তু তাতেও নাখোশ চামড়া ব্যবসায়ীরা।
বার্তাবাজার/এসজে