বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নকল ‘এন৯৫’ সরবরাহ করেছে ‘অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল’। এই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী শারমিন জাহানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় বিএসএমএমইউ প্রক্টর বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
শারমিন জাহান ২০০২ সালে ছাত্রলীগের বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল শাখার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের গত কমিটিতে তিনি মহিলা ও শিশুবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদকও ছিলেন। এখন তিনি আওয়ামী লীগের কোন পদে নাই। তবে দলের সাথে সক্রিয় আছেন।
বিএসএমএমইউ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে নকল ‘এন৯৫’ মাস্ক সরবরাহ করে শারমিন জাহানের মালিকানাধীন অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল নামে প্রতিষ্ঠান।
শারমিন ২০১৬ সালের ৩০ জুন স্কলারশিপ নিয়ে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে উহানে লকডাউন শুরু হলে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তার শিক্ষা ছুটির মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি।
এর মধ্যে চীনে থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালের মার্চে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল নামে সরবরাহকারী নিজের ব্যবসা শুরু করেন।
নকল মাস্ক সরবরাহ নিয়ে বিএসএমএমইউর অভিযোগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল চীনের ‘থ্রিএম কোম্পানি’র লোগো বসিয়ে এসব মাস্ক সরবরাহ করে’।
বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুলফিকার আহমেদ আমিন গণমাধ্যমকে জানান, শর্ত অনুযায়ী তাদের যে মাস্ক ও গ্লাভস সরবরাহের কথা ছিল সেগুলো অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল না দেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।।
অপরাজিতার সঙ্গে বিএসএমএমইউয়ের চুক্তি অটোমেটিক বাতিল হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় বিএসএমএমইউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার তার উত্তর দিয়েছেন অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার শারমিন জাহান। তিনি বিষয়টিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেছেন।
অভিযুক্ত সাবেক সেই ছাত্রলীগ নেত্রীর বক্তব্য:
তবে বিএসএমইউ’র সব অভিযোগ অস্বীকার করেন শারমিন জাহান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা নকল মাস্ক সরবরাহ করিনি। এসব প্রোডাক্ট চীন থেকে ইম্পোর্টেড। এগুলোতো আমরা তৈরি করিনি। আমরা শুধু সাপ্লাই দিচ্ছি। প্রোডাক্ট খারাপ হলে, বিএসএমএমইউ প্রথমবারই আমাদের বলতে পারত। আমরা সেটা যাচাই করে দেখতে পারতাম।’
তিনি আরও জানান, ‘মামলা যে কেউ করতে পারে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা মোকাবিলা করা হবে।’
বার্তা বাজার / ডি.এস