উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ব্রহ্মপুত্র নদের ঈশ্বরগঞ্জের নতুনচর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত ৫ দিন ধরে গ্রামের আড়াইশ পরিবার দুর্বিষহ জীবপন যাপন করছেন। কিছু মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন উজানকাশিয়ার চর এলাকায় খনন করা বালুর স্তুপের ওপর। বৃহস্পতিবার বন্যা কবলিত এলাকায় চিকিৎসা সহায়তা ও পানি বিশুদ্ধ করন ট্যাবলেট বিতরণ করেছে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর নতুনচর গ্রামের প্রায় ৩ হাজার মানুষের বসবাস। গ্রামটি ময়মনসিংহ সদর, গৌরীপুর, ত্রিশাল ও ঈশ্বরগঞ্জের সীমান্তবর্তী স্থানে অবস্থিত। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে জেগে ওঠা চরে বসতি গড়েছেন নদী ভাঙনে ভিটে হারা মানুষ গুলো। নতুন চরের চার দিকে ব্রহ্মপুত্র নদের অবস্থান। গত ৫ দিন ধরে নতুনচর এলাকার বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে জীবন যাপন করছেন। অনেকে আশপাশের উঁচু জায়তায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। ভাঙনে অন্তত ১৫ টি পরিবারের বাড়ি বিলিন হওয়ায় উজান কাশিয়ারচর এলাকায় নদী খননের বালুর উপর আশ্রয় নিয়েছে। নতুন চরের ঘরের বাসিন্দাদের ঘরের ভেতর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় সুপেয় পানি ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খানের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম বন্যা কবলিত এলাকায় যান। বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্গত এলাকার মানুষকে চিকিৎসা সেবা ও পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেক বিতরণ করা হয় স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে।
নতুনচর গ্রামের বাসিন্দা শামিম মিয়া বলেন, গত ৫ দিন ধরে গ্রামের প্রায় ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে জীবন যাপন করছে। মানুষের ঘরের ভেতর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। খুব কষ্টে দিন কাটছে তাদের। ঘরে খাবার নেই, বিশুদ্ধ পানি নেই।
উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বন্যায় নতুনচরের মানুষ প্লাবিত হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান বলেন, বন্যা দুর্গত ২২০ টি পরিবারকে বৃহস্পতিবার চিকিৎসা সেবা ও পানি বিশুদ্ধ করন ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন, দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার জন্য নিকটবর্তী একটি স্কুল খুলে দেওয়া হবে। এছাড়া খাদ্য সামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।
বার্তা বাজার / ডি.এস