করোনার পর থেকেই অনলাইন ক্লাসের দিকে ঝুকে গেছে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর সেই ক্লাসের জন্য অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে স্মার্টফোন। লকডাউনের আবহে স্কুলের পড়াশোনা সবই তো অনলাইনে হচ্ছে। তাই স্মার্টফোন না থাকলে বন্ধ রাখতে হবে পড়াশোনা।যার ফলে সন্তানদের পড়াশোনার জন্য শেষ সম্ভল বিক্রি করে দিলেন বাবা।
অগত্যা বিক্রি করে দিলেন পরিবারের শেষ সম্বল ৬ হাজার টাকায়। গরু যাক, অন্তত দুই সন্তানের পড়াশোনাটা চলুক। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের হিমাচলপ্রদেশের জ্বালামুখী নামক এলাকায়।
তবে সংবাদমাধ্যম থেকে সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য গরু বিক্রির খবর জানতে পেরে জ্বালামুখীর বিধায়ক রমেশ ধাওয়ালা কুলদীপকে আর্থিক সাহায্য করার জন্য বিডিও এবং এসডিএমকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ভারতের স্থানীয় সংবাদামাধ্যম সূত্রে জানা যায়, জ্বালামুখীর গুমার গ্রামের কুলদীপ কুমারের বসবাস। সম্বল বলতে ছিল ওই গরুটাই। দুধ বেচেই হত রোজগার। কিন্তু তার থেকেও জরুরি সন্তানদের লেখাপড়া। আর অনলাইন লেখাপড়ার জন্য দরকার একটা স্মার্টফোন। অনেক চেষ্টা করেও সেই টাকাটা জোগাড় করা যায়নি। তাই দুই সন্তান অন্নু আর দীপ্পুর লেখাপড়া চালিয়ে যেতে ৬ হাজার রুপিতে বেচে দিলেন গরু।
কুলদীপের দুই সন্তানের অন্নু পড়ে চতুর্থ শ্রেণিতে আর দিপ্পু দ্বিতীয় শ্রেণিতে। স্কুল থেকে বারবার স্মার্টফোন কিনতে বলা হয়। স্কুলকে কুলদীপ জানিয়েছিলেন, স্মার্টফোন কেনার মতো অর্থ নেই তার কাছে। ৫০০ রুপিও নেই।
কিন্তু অনলাইন ক্লাস করার জন্য ফোন ছাড়া উপায়ও তো নেই। টাকা জোগাড়ের চেষ্টাও কম করেননি কুলদীপ। কিন্তু কেউই সাহায্য করেনি। ঋণের আবেদন করেও লাভ হয়নি। তাই শেষ পর্যন্ত একমাত্র সম্বল গরু বিক্রি করেই জোগাড় করেছেন স্মার্টফোন কেনার অর্থ।
কেএস/বার্তাবাজার