মহামারী করোনাকালে জীবিকা নির্বাহের উপায় হারিয়েছেন রাজধানীর অনেক মানুষ। অক্ষম হয়েছেন বাসা ভাড়া দিতে কিংবা পরিবার নিয়ে দু’মুঠো খাবার খেয়ে বেঁচে থাকতে। তাদের কষ্ট সম্ভবত রাজধানীরও সহ্য হয়নি। তাই বাস্তবতার যাঁতাকলে পিষ্ট প্রায় দেড় লাখ পরিবারকে করেছেন ঢাকা ছাড়া। আবার অনেকেই সল্প ভাড়ার বাসায় খোঁজে নিচ্ছেন মাথা গোঁজার জন্য।
আর এ কারণে রাজধানীর অলিগলিতে এখন ঝুলছে অসংখ্য ‘টু লেট’। অনেক বাড়িওয়ালা ভাড়া কমিয়েও ভাড়াটিয়া পাচ্ছে না।
ভাড়াটিয়া পরিষদ জানায়, ‘করোনাকালে এখন পর্যন্ত ঢাকায় বাসা ছেড়েছে দেড় লাখের বেশি পরিবার। যাদের বেশিভাগই মধ্য ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত।’ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনাকালে কাজ হারানো রাজধানীর লাখো মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছেন।
বাড়িওয়ালারা জানান, করোনা সংকটে গত ২৬ মার্চ দেশে সাধারণ ছুটি শুরু হলে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী অনেকে গ্রামের বাড়ি চলে যান। তাদের বেশিরভাগ এখনো ফেরেননি। তবে তাদের অনেকেই এতদিন বাড়িভাড়া পরিশোধ করেছেন।
সংগঠনটির অন্য এক হিসাব বলছে, ঢাকার ২৭ শতাংশ ভাড়াটিয়া আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ, ৫৭ শতাংশ ভাড়াটিয়া প্রায় ৫০ শতাংশ, ১২ শতাংশ ভাড়াটিয়া আয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ টাকা ব্যয় করেন বাসা ভাড়ায়।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টারের তথ্য বলছে, ২০০৭ সালের পর খরা, ঘূর্ণিঝড়সহ নানা কারণে দেশের ভেতর উদ্বাস্তু হয়েছে প্রায় ৫৭ লাখ মানুষ। এসব মানুষের অধিকাংশই কর্মের সন্ধানে ঢাকায় প্রবেশ করে। যারা রাজধানীর বস্তিগুলোতে বাস করে আসছিল। তবে করোনার ধাক্কায় এসব মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে।
বার্তাবাজার/এসজে