কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি । পাশাপাশি পশুর হাটগুলোতেও দেখা যায় একি চিত্র। দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে আর অন্যদিকে কোরবানীকে সামনে রেখে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই পশুর হাট শুরু হয়েছে। হাটগুলোতে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ছাড়া ও সামাজিক দূরত্ব না মেনেই চলছে পশু ক্রয়-বিক্রয়। এতে যেন পশুর হাটগুলো করোনা সংক্রমনের খনি ও মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
আবার ল্যাম্পি স্কিন নামক গবাদি পশুর নতুন একটি ভাইরাস দেশব্যাপীর মত এ জেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এরপরেও পশুর হাটগুলোর কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই চলছে ক্রয়-বিক্রয়। বাজারগুলোতে নেই কোন পশু রোগ নির্ণয় করার ব্যবস্থা, নেই কোন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পশু ডাক্তার বা পর্যবেক্ষণ টিম। এমন দৃশ্য দেখা গেছে সদর উপজেলার যাত্রাপুরহাট,দুর্গাপুর হাট,মোগলবাসা হাট,কাঁঠালবাড়ি হাট উলিপুর উপজেলার উলিপুর হাট সহ বিভিন্ন হাট বাজারেও।

অন্যদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সূত্রে জানা যায়, ল্যাম্পি স্কিন রোগে জেলায় ৩ হাজার ৭২১ টি গরু আক্রান্ত হয়েছে,এদের মধ্যে কিছু বাছুর গরুও ইতিমধ্যে মারা গেছে ।
গরু ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, গরু গুলোকে কোন রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই বাজারে প্রবেশ করানো হচ্ছে। মাক্স বা সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা উচিত বলেও মনে করেন তারা কিন্তু নানা অযুহাত দেখিয়ে মানছেন না কেউ কোনো স্বাস্থ্যবিধি। করোনার কারণে ক্রেতা কম হওয়ায় ও গরুর ল্যাম্পি স্কিন রোগের কারণে গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম অনেক কম।

এবিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মকবুল হোসেন বলেন, কোরবানীর কারনে আমাদের সদর উপজেলায় ৩ টি মেডিকেল টিম কাজ করছে, উপজেলা শহরগুলোর বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া আছে,সেইসব গরুর হাটগুলোতে আমাদের মেডিকেল টিম কাজ করবে। এছাড়াও লাম্পি স্কিন রোগের এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার ৬০০ গরুকে টিকা দেয়া হয়েছে এবং করোনার মতো ল্যাম্পি স্কিন রোগেরও সুনির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। তার পরও জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল ও এন্টি হিসটামিন জাতীয় ঔষধ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও জানান মি.মকবুল হোসেন ।
উল্লেখ্য,গতকাল (২১ জুলাই) জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৫৭ জন, সুস্থ্য হয়েছে ১৯৫ জন, ও করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের।
বার্তা বাজার / ডি.এস