সাভারে একটি ব্রিজ ভেঙ্গে ফেলার পরে নতুন ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী। ব্রিজ নির্মাণের জন্য সেখানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রড সিমেন্ট নিয়ে আসলেও ব্রিজের কাজ না করে সেগুলো নিয়ে উধাও হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী জানায়, সাভার পৌরসভার পাশে নামা গেন্ডা উলাইল ও বনগাঁও ইউনিয়নের সাধাপুর এলাকায় শহীদ স্মরণী শাখা সড়কের সাধাপুর খালের উপরে একটি পুরাতন ব্রিজ ভেঙ্গে ফেলে নতুন একটি বেহলী ব্রিজ নির্মাণের জন্য যৌথ ভাবে উদ্যোগ নেন সাভার উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। গত চার মাস আগে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে ব্রিজটি নির্মাণের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মডার্ণ গ্রুপকে।পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরাতন ব্রিজটি ভেঙ্গে ফেলে নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য রড সিমেন্ট ও বালু সেখানে নিয়ে আসলেও অজ্ঞাত কারণে ব্রিজ নির্মাণ না করেই সেগুলো নিয়ে উধাও হয়ে যায়। এঘটনায় ওই সড়ক দিয়ে যানচলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে কয়েক লক্ষ মানুষ। এই সড়কটি দিয়ে সহজেই মানুষ গেন্ডা উলাইল হয়ে বনগাঁও চাকুলিয়া ও বিরুলিয়া হয়ে মিরপুর যাতায়াত করতে পারতেন।
এদিকে ওই ব্রিজটির পাশে বিভিন্ন পুকুরে মৎস্য চাষীরা মাছ চাষ করেছে। কিন্তু ব্রিজটি ভাঙ্গা থাকার কারণে পুকুরের বাধ ভেঙ্গে যাওয়ার হুমকির মুখে পড়েছে মৎস্য চাষীরা। এ অবস্থায় মৎস্য চাষীরা দিশে হারা হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীরা নিজস্ব অর্থায়নে বালুর বস্তা দিয়ে বাধ নির্মাণ করছেন যাতে পুকুরের মাছ না বের হয়ে যান। এছাড়া ব্রিজটি নির্মাণ না হওয়ায় অনেক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সাঁতার কেটে পার হচ্ছেন। এছাড়া ব্রিজটি নির্মাণের জন্য পাশে মানুষের যাতায়াতের জন্য একটি বিকল্প রাস্তা তৈরি করা হলেও সেটি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
এলাকাবাসীর আরও দাবি, পৌরসভার কাছে হওয়ায় ব্রিজটি নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় তারা হতাশার মধ্যে পড়েছেন। ৪২ মিটার দৈর্ঘ্য এই বেইলী ব্রিজটি কয়েক লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মাণ হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ’শ দিনের জন্য ব্রিজটি নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই ব্রিজটি নির্মাণ হলে গেন্ডা উলাইল ও বনগাঁও ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।
এদিকে, করোনা ভাইরাসের কারণে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাভার উপজেলা প্রকৌশলী সালেহ হাসান প্রমাণিক। তিনি বলেন, ব্রিজ নির্মাণ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পালিয়ে যায়নি। আগামী ঈদুল আযাহার পরে স্বাস্থ্য বিধি মেনেই ব্রিজটির নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এদিকে টানা দু’দিনের বৃষ্টিতে সাভার পৌরসভার বিভিন্ন রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। বৃষ্টিতে ভেঙ্গে গেছে রাস্তাঘাট। চরম দুর্ভোগে পড়েছে পৌরবাসী। এছাড়া বন্যার পানিতে সাভারের বিভিন্ন স্থানে তলিয়ে গেছে কৃষকের ফসলী ক্ষেত। বিভিন্ন বাড়িতেও হাঁটু পানি জমেছে।
বার্তা বাজার / ডি.এস