ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে কৃষককে পিটিয়ে মারলো গ্রাম পুলিশ
চেয়ারম্যানের নির্দেশে গোলাম কুদ্দুস (৫০) নামের এক কৃষককে পিটিয়ে মারে গ্রাম পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ঘটনাটি ঘটে সাতক্ষীরার কলারোয়াতে।
জানা যায়, নিহত ব্যক্তি কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। নিহতের মেয়ে মনোয়ারা খাতুন বলেন, ‘প্রতিবেশী রাজিয়া বেগম বিয়ে ছাড়াই তার দেবর মনি ফকিরের সঙ্গে অনৈতিক কার্যকলাপ করে। বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে থাকে। বিষয়টি নিয়ে আমার বাবা ওই মহিলাকে বলত, তোমরা আর পাপ কাজ কর না। এ নিয়ে ওই মহিলা বিরক্ত হয়ে চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামের কাছে মৌখিক অভিযোগ দেয়।’
তিনি বলেন, ‘অভিযোগের পর চেয়ারম্যানের নির্দেশে গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ দিলিপ ও অশোক বাড়িতে এসে লাঠি দিয়ে বাবাকে বেধড়ক মারপিট করে। এরপর বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে নিতেও বাধা দেয় চেয়ারম্যান মনিরুল।
নিহত ওই কৃষকের মেয়ে আরও বলেন, ‘ভয়ে বাবাকে আমি ও মা হাসপাতালেও নিয়ে যেতে পারিনি। আজ সকালে অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। তখন চুরি করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর বাবা মারা গেছে। এ ঘটনায় আমার মা ফিরোজা বেগম কলারোয়া থানায় চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশের নামে মামলা দিলেও থানা থেকে চেয়ারম্যানের নাম বাদ দিয়েছে। এই মামলা আমি মানি না।’
চন্দনপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ডালিম জানান, বেধড়ক মারপিটে মাথা, পিঠ, হাত ও কোমরে আঘাতপ্রাপ্ত হয় গোলাম কুদ্দুস। আজ সকালে অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে কলারোয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভর্তির ঘণ্টাখানেক পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ডালিম বলেন, ‘মারপিট করে হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়া এটা কোনো সচেতন মানুষের কাজ নয়। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। চেয়ারম্যান এর আগেও এমনিভাবে একাধিক মানুষকে গ্রাম পুলিশ দিয়ে পিটিয়েছে।’
এ ঘটনায় চন্দনপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনকল রিসিভ করেন তার ছোট ভাই জাকির হোসেন। তিনি দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘মনিরুল থানার ভেতরে আছেন।’
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনীর উল গিয়াস বলেন, ‘এ ঘটনায় চৌকিদারদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। তবে চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে তাদের পাঠিয়েছিলেন। যার কারণে চেয়ারম্যানকে থানায় ডেকে আনা হলেও তাকে আমরা আটক করছি না।’
কেএস/বার্তাবাজার