স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরেও রাস্তা পাঁকা হলো না!

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার টুপিপাড়া ও ছোনগাছা গ্রামের মধ্যকার দেড় কিলোমিটার সংযোগ রাস্তাটি স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৪৯ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে,সংস্কার না হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাসহ এলাকাবাসি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তারা অনেকেই জানিয়েছেন, আমাদের এই সংযোগ রাস্তাটি দেখার যেন কেউ নেই! দুই গ্রামের মধ্যকার এই গুরুত্বপূর্ন রাস্তাটি হালকা বৃষ্টি হলেই হাজারো মানুষের দূর্ভোগের শেষ থাকেনা। কৃষকের মাঠের ফসল ঘরে তুলতে এবং বাজারে নিয়ে যেতে খুবই কষ্ট হয়।

এমন কি বৃষ্টির মৌসুমে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়ার কোন উপক্রম থাকেনা। গুরুত্বপূর্ন এই রাস্তাটি অতি দ্রুত পাঁকাকরণের দাবি এলাকাবাসির।

স্থানীয় এলাকাবাসির অনেকেই জানান, গুরুত্বপূর্ন এই রাস্তাটি বার বার কর্তৃপক্ষের নজরে নিয়ে আসলেও মহান স্বাধীনতার ৪৯ বছর পেরিয়ে গেলে ও কোন কাজ হয়নি। এই রাস্তার জন্য আমাদের দূর্ভোগের কোন শেষ নাই।

২০১৭ সালে রাস্তার কোড নাম্বার আসে। তখন আমাদের মনে একটি স্বস্তি আসে। কিন্তু ৫০ ফিটের মত ইট বিছানোর পর কোন এক অদৃশ্য কারনে রাস্তার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের এলাকাবাসির দাবি অতিদ্রুত এই রাস্তাটি পাঁকাকরণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য জননেতা এ্যাড.সাইফুজ্জামান শিখরের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা তুকমান শেখ বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য আমি আকবর বাহিনীতে যোগ দিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম। স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পার হলেও এ রাস্তাটি পাঁকা করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে বার বার বলার সত্বেও এখন পর্যন্ত কোন কাজ হয়নি।

ইতিমধ্যে আমার সহযোদ্ধা শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মিয়া মাজেদুর রহমানসহ অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁরা দেখে যেতে পারিনি এ রাস্তার কাজ। আমি শেষ পর্যন্ত এ রাস্তার কাজটি দেখে যেতে পারবো কি না জানিনা। তবে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার জোর দাবি খুব দ্রুত এই রাস্তাটি পাঁকা করা হউক।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলার ৩নং শ্রীকোল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মিয়া ওহিদুল ইসলাম বলেন, জনবহুল এই রাস্তাটি এলাকার মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ন, পাঁকা করা খুবই জরুরী। রাস্তাটি পাঁকা হলে দুই গ্রামের সাধারণ মানুষগুলো তাদের দৈনন্দিন কাজ গুলো ঠিকমত করতে পারবে, বাঁচবে অনেক সময় ও শ্রম। মুক্তিযোদ্ধাসহ অনেকেই একটু হলেও অন্তত ফেলবে স্বস্তির নিঃশ্বাস।বলবে মরার আগে অন্তত দেখে যেতে পারলাম নিজেদের বাড়ির সামনের রাস্তাটি পাঁকাকরণ।

কেএস/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর