টেকনাফে আ. লীগ নেতার চোখ উপড়ে নিলো চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

গত ১৯ জুলাই কক্স বাংলা ডট কম নামক একটি স্থানীয় অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে আমাকে জড়িয়ে ‘টেকনাফে ইয়াবাকারবারী কর্তৃক আওয়ামী লীগ নেতার চোখ উপড়ে নিলো’ সংবাদটি আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। সংবাদটিতে দিব্যি সত্য একটি ঘটনাকে মিথ্যে দিয়ে আড়াল করে প্রকৃত সত্যকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে আমার মতো একজন সফল ব্যবসায়ীর মানক্ষুন্ন করা হয়েছে। যা একটি সুস্থ ধারার গনমাধ্যমের কাছে আশাহীন। সংবাদ মাধ্যমটি প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে আমার বক্তব্য বিহীন একটি মূখ রুচক গালগল্প ছাপিয়ে গণমানুষের সঠিক তথ্য জানার অধিকার হরন করেছে।

বাস্তব ঘটনাটি হচ্ছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টায় কায়ুকখালী পাড়ার আবছার সোহেল ও তার ফুফাতো ভাই মৃত ইসলামের ছেলে সামি কাইছার মিলে বিনা কারনে মাতাল অবস্থায় টেকনাফ পৌর শহরের বাস স্টেশন আমার মালিকানাধীন আরিফ মেডিকেল হলে অবস্থানরত আমার সহোদর আব্দুল আমিন কে মারধর করে। পরের দিন শনিবার একই ঘটনার জের ধরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়ার আমার বাড়ির নিচে আমার ব্যবসায়িক অফিসে এসে সোহেলের সহোদর ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে বহু অপকর্মের হুতা জুয়েলের নেতৃত্বে একদল স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী আমাকেসহ আমার অফিসের কর্মচারীদের উপর অতর্কীত হামলা চালিয়ে অফিসে কর্মচারী সাইফুলকে মাথায় মারাত্বক ভাবে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় ধস্তাধস্তিতে আবছার সোহেল আহত হয়। এঘটনার পরে দেশের শীর্ষ স্থানীয় মাল্টি মিডিয়া নিউজ পোর্টাল ‘বার্তা বাজার’ সহ স্থানীয় কয়েকটি নিউজ পোর্টালে ঘটনার সময় সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজসহ স্বচিত্র সংবাদ প্রচার হয়। এতে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গত্রদাহ শুরু হয়। পরের দিন আমার বিরুদ্ধে একটি অনলাইন মাধ্যমকে ব্যবহার করে মিথ্যে অপপ্রচারে বন্দনা ছেপেছে। ঘটনার পরবর্তী স্থানীয় থানার (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাটি সম্পর্কে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিরাও অবগত রয়েছেন।

সংবাদে একটি অংশে হাস্যকরভাবে আমাকে মাদক সংশ্লিষ্ট বলে উপস্থাপন করে নিজেদের মাদক সম্রাজ্যের তকমা অড়াল করতে চাইছে। এসব বানোয়াট সংবাদটি দেখে আমি হাস্যকরভাবে অবাক হলাম। টেকনাফবাসী নিশ্চয় অবগত আছেন আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে টেকনাফে মাদক সেবন ও কারবার প্রসারের অতীত ইতিহাস। বিগত দিনে টেকনাফের যুব সমাজ যখন হেরোইন, ফেন্সিডিন সম্পর্কে অপরিচিত ছিলো তখন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার থেকে মাদক আমদানী করে কোন পরিবারের সন্তানেরা সেবন এবং বিক্রি করতো সেটা সবার জানা আছে। স্থানীয় সচেতন প্রবীনদের মতে টেকনাফকে মাদকের অন্ধকারে ঠেলে দেয়ার পেছনে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী পরিবারিটি দ্বায়ী বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। টেকনাফের মাদকের ইতিহাস ঘাটলেই এসব তথ্য উঠে আসে। এছাড়াও ষড়যন্ত্রকারীদের পরিবারের এক ডজনের অধিক সদস্য সরাসরি মাদক কারবারের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। এদের অনেকে বেশ কয়েকবার আইশৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলো। এসব তথ্যের সত্যতা গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসবে। প্রপাগন্ডা না ছড়িয়ে আপনাদের প্রতি আমার দৃঢ় চ্যালেঞ্জ, আমার বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য প্রমানসহ মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ কিছুতেই প্রমান করতে পারবেন না। কারন আমি মাদক দুনিয়ার সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর একজন বাসিন্দা।

এছাড়া বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক অভিযোগকে তীর বানিয়ে আমার মতো একজন স্বচ্ছ ইমেজের ব্যবসায়ীকে সাবেক ছাত্র শিবির এবং পরবর্তীতে জামায়াত নেতা বলে উপস্থাপন করার বিষয়টি আরো একটা হাস্যকর প্রলাপ মনে হলো। আপনাদের প্রতি আমি চ্যালেঞ্জ চুড়ে দিলাম, আমার সাথে জামাত শিবিরের সম্পর্ক ছিলো বা আছে এরকম কোন দালিলিক প্রমান থাকলে উপস্থাপন করে আপনাদের দাবী সত্যতা প্রমান করুন। ঘোলা পানিতে মাছ শিকাকরা থেকে বিরত থাকুন। অতীত ইতিহাসের দিকে ফিরে থাকালেই প্রতিয়মান হয় যে, আমার বাবা টেকনাফ উপজেলার সাবরাং পানছড়ি পাড়ার মৃত সুলতান আহমদ জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধু প্রেমী একজন একনিষ্ট আওয়ামী লীগের প্রতি নিবেদিত ছিলেন। ১৯৭১ সালে আমার বড় ভাই ডাঃ জালাল মুক্তি বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারনে যুদ্ধকালীন পাক বাহিনী আমাদের বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেয়ার ইতিহাস কেউ মিথ্যা প্রমান করতে পারবে না। প্র‍য়োজনে উপজেলায় দায়িত্বরত গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা আওয়ামী লীগের প্রবীনদের কাছে অনুসন্ধান করে বাস্তব সত্য উদঘাটন করুন।

বিগত ১৬ বছর যাবৎ আমি একজন সফল ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা। ২০০৪ সালের দিকে টেকনাফে মোবাইল হেভেন নামক ব্যবসা প্রতিষ্টানের মধ্য দিয়ে ব্যবসা জগতে পদার্পন করে সরকারের উন্নয়ন খাতে জমি অধীগ্রহনকালীন সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন ও মেরিন ড্রাইভে বেশ কিছু জমি বিক্রি করে সেই অর্থ এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারী ব্যাংক থেকে কোটি কোটি ঋন নিয়ে ব্যবসায় লগ্নি করে একে একে রবি আজিয়াটা কোম্পানীর সাব ডিলার, গ্রামীণ ফোন ডিলার, সিম্পনী ডিলার, ইউনিলিভার এজেন্ট, বিকাশ এজেন্ট হিসেবে স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের মাঝে আমার সু-পরিচিতি রয়েছে। আমার ব্যক্তি মালিকানাধীন এসব ব্যবসা প্রতিষ্টানে বর্তমানে শতাধিক কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। প্রতি বছর আমার প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্টান ও সম্পত্তির আয়কর সরকারী কোষাগারে নিয়মিত প্রদান করে আসছি। এছাড়াও ব্যবসায়ীদের সমর্থন নিয়ে কয়েক বছর ধরে টেকনাফ বাস স্টেশন ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার একটি বালিকা বিদ্যালয় ও বৃহৎ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্টানসহ বেশ কিছু সামাজিক ও উন্নয়ন মূলক সামাজিক সংগঠন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত আছি।

এসব সফলতার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার প্রতিপক্ষ মহলটি সম্প্রতি সংঘটিত নিজেদের অপরাধ আড়াল করে আমার সামাজিক ও ব্যবসায়ীক আত্মমর্যাদা ক্ষুন্ন করে আমার বিরুদ্ধাচারণ করে হামলার ঘটনা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার অপপ্র‍য়াস চালিয়ে যাচ্ছে। তাই সমাজের সচেতন মহল ও সরকারী সংশ্লিষ্টদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, এসব পাতানো গালগল্পে বিভ্রান্ত না হয়ে আসল সত্য উদঘাটন করে ঘটনায় জড়িত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করুন। যাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমটি আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। তাদের প্রতি আমার আরজ, প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে আসল অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করুন। পরবর্তীতে একই ভাবে আমার বিরুদ্ধে যে ভিত্তিহীন অপপ্রচারে লিপ্ত হলে আমি দেশের প্রচলিত আইন মোতাবেক এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।

প্রতিবাদকারীঃ
আব্দুল করিম
ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা।
সাধারণ সম্পাদক, টেকনাফ বাস স্টেশন ব্যবসায়ী কল্যান সমিতি।

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর