গত ১২ ঘন্টায় ফরিদপুরের পদ্মার পানি আরোও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে জেলা সদর থেকে চরভ্রদাসন ও সদরপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ওই সড়কের কয়েক স্থানে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়াও ওই সড়কের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় হুমকির মুখে রয়েছে।
সোমবার সকালে ফরিদপুর শহরের বর্ধিত পৌরসভার ২৫ নং ওয়ার্ডের একটি পাঁকা সড়ক পানির চাপে ভেঙ্গে গেছে।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানান, জেলার ৩০টি ইউনিয়নে মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। তাদের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলাগুলোতে দুইশো মেট্রিক টন চাল ও নগদ তিন লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জেলার নিম্নাঞ্চলের অনেকগুলো আঞ্চলিক সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল সাময়িক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ জানান, ফরিদপুরের গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পানি ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে।
এদিকে মধুমতি নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে জেলার আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান জানান, এবারের বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকেই এ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম জুড়ে মধুমতি নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই মানুষ তাদের ভূসম্পত্তি হারাচ্ছে। সরকারি ভাবে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে, তবে তা খুব একটা কাজে আসছে না। তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ছাড়া ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে না।
বার্তা বাজার / ডি.এস