কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা গৃহবধু শেফালি (২৮)আশ্রয় নিয়েছেন রমনা রেল স্টেশনের রেল লাইনের ধারে। ৮ দিন ধরে তিনি রয়েছেন এখানে।
আক্ষেপ করে বলেন, “আটদিন থাকি এটি আছি(রেল লাইন), নাই কোন কল (নলকূপ) নাই কোন পায়খানা(শৌচাগার)।
অনেক কষ্টত আছি।” একই স্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক গৃহবধু নাজমা বেগম বলেন(২৯) বলেন, ‘আমার কাছে খাবারের চেয়ে নলকূপ ও টয়লেট ব্যবস্থা না থাকাটাই বড় সংকট বলে মনে হচ্ছে।’ অন্যদিকে উপজেলার হেলিপ্যাড নামক জায়গায় আশ্রয় নেয়া বয়োবৃদ্ধ এক নারী অভিযোগ করে বলেন, তাদের বাড়িগুলি বন্যার পানিতে ডুবে গেছে এবং তারা হেলিপ্যাড এলাকার উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন।

তার মতো শত শত পরিবার এখানে আশ্রয় নিয়েছে। তবে খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধার তীব্র ঘাটতি রয়েছে এখানে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ভারি বর্ষনের কারণে এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে গিয়ে বিপৎসীমার ৪৯ সে.মি উপর দিয়ে উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ।যার ফলে উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার অন্তত ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো খাদ্যের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, বন্যা কবলিত এলাকায় পানিবাহিত রোগ দেখা দেয়ায় চরম কষ্টে রাস্তায় ও বাঁধে আশ্রয় নেয়া বানভাসিরা। সড়কে আশ্রয় নেয়া রমজান আলী (৫২) বলেন,”বাহে বাড়িঘর পানিত ভাসি গেইছে,এট্টি কোনা (সড়কে) ৫ দিন থাকি আছি,মোর হাত পা সাদা সাদা হয়া গেছে,খালি চুলকায়।” সরেজমিনে দেখা যায়, বানভাসীদের অনেকের পায়ে ও হাতে সাদা সাদা হয়ে গেছে। কয়েকজন পাতলা পায়খানাতেও আক্রান্ত হয়েছে।
এ ব্যাপারে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ যোবায়ের বার্তা বাজার কে বলেন,” আমাদের ৩ টি মেডিকেল টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে, তারা পর্যাপ্ত ঔষধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও সরবরাহ করছেন বানভাসীদের। উপজেলা হাসপাতালে এখনো কেউ পানিবাহিত রোগী ভর্তি হয়নি,ভর্তি হলেও তাদের চিকিৎসা প্রদান করা হবে।”
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান শাহ জানান, তিনি বানভাসিদের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে নলকূপ স্থাপন ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট স্থাপনের জন্য পদক্ষেপ নিয়ে তা তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন করছেন।
বার্তাবাজার/এমকে