খাগড়ছির রামগড়ের পাতাছড়া ইউনিয়নের চাষীপাড়া এলাকায় ভোর রাতে স্বামী ও তাঁর সহযোগীদের হামলায় সুমী আকতার রহিমা (২৩) ও তার মা কামরুন নাহার (৪৭) গুরতর আহত হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ২০১৪ সালে ঢাকা গার্মেন্টেসে চাকরির সুবাধে মিল্টনের সাথে রিমার বিয়ে হয়। তাদের ২ বছর বয়সী ১টি কন্যা সন্তান রয়েছে। গত ৩মাস পূর্বে তাদের সাংসারিক বনিবনা না হওয়ায় রিমা স্বামীকে ডিভোর্স দেয় । কিন্তু রবিবার ভোর রাতে স্বামী মিল্টন সহ আরো ৩জন প্রাইভেটকার নিয়ে রিমাদের বাড়িতে এসে সিঁদ কেটে ঘরে প্রবেশ করে স্ত্রী রিমা ও তার মাকে কুপিয়ে জখম করে। এসময় তাদের আত্মচিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে তাদের ধাওয়া করে জালিয়াপাড়া বাজারে আটক করে গণদোলাই দিয়ে প্রাইভেটকারসহ হাফছড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করা হলে রামগড় থানা পুলিশ তাদের আটক করে।
আটককৃতরা হলেন, মিল্টন শিকদার জাহিদ (৩৭) পিতা শাহজাহান, এস এম রনি আহাম্মেদ (২৩), পিতাঃ মোঃ গাউস, সাজিদুল ইসলাম (২২) পিতাঃ শফিকুল ইসলাম, ও সফিকুর সমাদ্দার (৩৮) আবুল হোসেন সামাদ্দার সর্ব গ্রাম প্রহরডাঙ্গা, কালিয়া, জেলা নড়াইল। এর মধ্যে আসদুস সামাদ সাইফুল (৫৫) পিতা- মতিন প্রধান, গ্রাম রৌশনপুর পূর্বপাড়া, থানা পিরগঞ্জ রংপুর পালিয়ে যায়।
আহত সুমি আক্তার রহিমা জানান, বিয়ের পর থেকে স্বামী অমানুষিক নির্যাতন চালাতো। তার স্বামী একজন পেশাদার ছিনতাইকারী। এর পূর্বেও তিনি ২বার জেল খেটেছেন। এসবের কিছুই তিনি জানতেন না, জানার পর তিনি মায়ের কাছে চলে আসেন এবং তার কোন ভরন-পোষণ না দেয়া ও নির্যাতন করায় ৩ মাস পূর্বে স্বামীকে তালাক দেন। রবিবার ভোররাতে তাকে হত্যার উদ্দেশ্য সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সামসুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে নির্যাতিতা বাদী হয়ে রামগড় থানায় মামলা করেছেন। আটককৃতদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
বার্তা বাজার / ডি.এস