ঢাকা কলেজ (একাল-সেকাল)

চলতি বছর ২০২০ এর গতকাল ১৮ জুলাই এ ১৭৯ বছরে পদার্পণ করল দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এবং সবচেয়ে পুরাতন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজ। কলেজটি বেশ কয়েকবার স্থান পরিবর্তন করে বর্তমানে ১৮ একর জায়গা নিয়ে অবস্থান করছে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেট এলাকায়। ১৮৪১ সালের ১৮ জুলাই উপমহাদেশের প্রথম আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এই কলেজটি।

১৮৩৫ সালে তৎকালীন সিভিল সার্জন জেমস টেইলর সম্পুর্ণ সরকারি তত্ত্বাবধানে বাংলা প্রেসিডেন্সির প্রধান শহরগুলোতে ইংরেজি শিক্ষার প্রসারের জন্য যতগুলো সম্ভব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট মি.গ্রান্টের সহায়তা নিয়ে তিনি(টেলর) একটি এলাকা ভিত্তিক কমিটি গঠন করেন জনগণের সাথে থেকে তাদের চাহিদা পূরণ করতে এবং তাদেরকে শিক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে।

স্যার জে. আয়ারল্যান্ডকে অধ্যক্ষ নিযুক্ত করে কলেজটির যাত্রা শুরু হয়। শুরুর দিকে মুসলিম ও হিন্দু শিক্ষার্থীর পাশাপাশি কিছুসংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী নিয়ে প্রথম চালু হয় স্নাতক শ্রেণির কার্যক্রম। এ কলেজ প্রতিষ্ঠার পর ঢাকা হয়ে ওঠে সমগ্র পূর্ব বাংলার ইংরেজি শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র। ১৮৭৫ সালে ঢাকা কলেজে প্রথমবারের মতো বিজ্ঞান শাখা খোলা হয়।

ঢাকা কলেজে বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক এর পাশাপাশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মোট ১৯টি বিষয় নিয়ে পড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে ঢাকা কলেজে প্রায় ২০,০০০ শিক্ষার্থী পাঠগ্রহণ করছে। শিক্ষার্থীদের বসবাসের জন্যে রয়েছে ৮টি আবাসিক হল। ঢাকায় বসবাসরত শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কলেজটির রয়েছে নিজস্ব ৮টি বাস।

ঢাকা কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন জিল্লুর রহমান (বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি), তাজউদ্দিন আহমেদ(প্রথম প্রধানমন্ত্রী), ফজলে আবেদ চৌধুরী, জাস্টিস এম ইব্রাহিম, আবদুল মতিন চৌধুরী, আআমস আরেফিন সিদ্দিকী, হুমায়ুন আহমেদ, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, মোশাররফ করীম, আফরান নিশো,মান্না, প্রসন্ন কুমার রায়,মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুম, জগদীশচন্দ্র বসু প্রমুখ সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৭ কলেজের একটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

পুরাতন এবং বর্তমানে পাঠগ্রহণ করছেন এমন কিছু শিক্ষার্থীর কথা-

কলেজে ভর্তি হওয়ার আগে দেশসেরা বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের কথা শুনতাম যারা এই কলেজ থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন যা আমাকে অধিক রোমাঞ্চিত করত।।তেমনি দেশসেরা শিক্ষকদের থেকে তাদের অনুপ্রেরণা পাওয়াটাও ভাগ্যের ব্যাপার ছিল (নিলয়)।

পড়াশোনার মান মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণ। এই বিদ্যাপিঠ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব উপহার দিয়েছে আমাদের।। তবে পড়াশোনার মান আরো ভালো করবার পাশাপাশি আবাসিক হল গুলোর মেরামত বা পুননির্মাণ জরুরি। (শাহাব)

জামান আশরাফ
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর