ঈদে পশুর হাট কাঁপাতে আসছে ‘কালা পাহাড়’

আর মাত্র কয়েক দিন পরই ঈদুল আযহা। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সারা দেশের মতো মাগুরার খামারিরাও প্রস্তুত করেছে তাদের ষাঁড়। এবার কোরবানির পশুর হাট কাঁপাতে আসছে মহম্মদপুর উপজেলার একটি ষাঁড় ‘কালা পাহাড়’।

নিজের সন্তানদের মতো আদর-যত্ন করে বড় করেছেন খামারি। কালো সাদার মিশেল রঙের সুঠাম স্বাস্থ্যের অধিকারী কালা পাহার। উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নে ডাক্তার ছরোয়ার মৃধার বাড়িতে পালিত হয়েছে কালা পাহাড়। যার ওজন প্রায় ২৫ মণ। খুবই শান্ত প্রকৃতির কালা পাহাড়কে দেখতে ও ছবি তুলতে ছরোয়ার মৃধার বাড়িতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

খামারি ছরোয়ার মৃধা বলেন, গরুর ফিড খাবার খাওয়াইনি। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পশুচিকিৎসকদের পরার্মশে গরুর ওজন এবং প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রাকৃতিক সুষম খাবার খাওয়ালে অর্থ ও ঝুঁকি দুটোই কমবে এবং নিরাপদ মাংস উৎপাদন হবে।

ষাঁর কালা পাহাড়ের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের সবুজ ঘাস, গাছের পাতা, খড়, ভূষি, ভুট্টা ভাঙা, সরিষার খৈল, নালি, চালের কুড়া, লবণ ও পরিমাণ মতো পানি রাখা হয়। কালা পাহাড়ের বয়স এখন সাড়ে তিন বছর। দাঁত ৬ টি।

কালা পাহাড়কে নিয়মিত গোসল করানো, পরিষ্কার ঘরে রাখা, ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত হাঁটানো, রুটিন অনুযায়ী ভ্যাকসিন দেয়া ও কৃমির ওষুধ খাওয়ানোসহ সবকিছুই করা হয়েছে চিকিৎসকের পরামর্শে। কালা পাহাড়কে মোটাতাজা করতে কোনো ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

কালা পাহাড়ের দাম নিয়ে খামারি ছরোয়ার বলেন, বাজার অনুযায়ী বিক্রি করতে হবে। বাজার ক্রেতা ও গরুর সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। তবে আমি কালা পাহাড়ের দাম চাচ্ছি ৮ লাখ টাকা। আগামী ঈদেও তিনি এমন গরু উপজেলাবাসীকে উপহার দেবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, যদি পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাই তাহলে অবশ্যই চেষ্টা করব আরো ভালো মানের গরু সরবরাহ করার।

এ প্রসঙ্গে মহম্মদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন সরকার বলেন, গরুটি সম্পূর্ণ দেশি খাবার খাইয়ে লালন পালন করা হয়েছে। গরুটি ফ্রিজিয়ান জাতের। এ জাতের গরু আমাদের দেশে এখন খামারিরা পালন করছেন। আমার জানা মতে মহম্মদপুর উপজেলার সবচেয়ে বড় গরু এই কালাপাহাড়।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর