মহামারী করোনা আমাদের বেশ ঝাঁকিয়েই বসতে শুরু করেছিল। কিন্তু নানামুখী পদক্ষেপ ও দেশের মানুষের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাল হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কম। দেশে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ৫৮১ জনের মৃত্যু হলেও করোনার উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যাও কম না। এর সঠিক পরিসংখ্যাও এখন পর্যন্ত একত্রিত করা হয়নি।
সম্প্রতি করোনার নমুনা কম পরীক্ষার দরুন আর স্বাভাবিক কারনেই হোক, দেশে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা কমে আসছে। শনিবার (১৮ জুলাই) দেয়া তথ্যমতে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা একদিনে ২ হাজার ৭০৯ জন। আর মোট সংখ্যা ২ লাখের ঘর পার করে আরও ২ হাজার ৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। সুস্থ হওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেই হয়ত সবকিছু সীমিত করে চালু করতে করতে পুরোদমে চালু হয়ে গিয়েছে।
কিন্তু কোভিড-১৯ এমন এক ধরণের ভাইরাস, সেটা যদি একজনের দেহেও থাকে তাহলে আবার ছড়াবে। এই বিশ্বাস মানুষজনের মাঝে নেই বললেই চলে। স্বাভাবিক সময়ের মত মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে, ঘুরছে আড্ডা দিচ্ছে। চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জটলা পাঁকিয়ে চা পান করছে। করোনা বিষয়ে আড্ডা জমানোর শুরুতেই বলছে, ‘আরে দেশে করোনা আছে নাকি ভাই?’। সাথের মানুষজনও সমস্বরে আড্ডায় অংশ নিচ্ছে। যেন মজার এক বস্তু এটা। ভয়ে নুন্যতমও অনেকের মাঝে নেই।
রাজধানীর পূর্ব শেওরাপাড়ার একটি গলিতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় চায়ের দোকানগুলোতে আড্ডা জমে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও বড় পরিসরে। থেমে থেমে সশব্দে হাসি, সিগারেটের ধোঁয়া আর চায়ের কাপে তৃপ্তির চুমক দেখে মনে হয় কে বলে পৃথিবী এখনও অসুস্থ?
সেখানে এক যুবকের সাথে বার্তাবাজারের প্রতিনিধির আলাপ হলে তিনি জানান, ‘ভাই সারাদিন অফিস করি। তাও সামাজিক দুরুত্ব মেনে। সন্ধ্যায় একটু বের হই। মনতো আর ঘরে থাকে না। তাছাড়া আমরাওতো সীমিত পরিসরেই আড্ডা দিচ্ছি। আগে আড্ডা দিতাম গভীর রাত পর্যন্ত এখন সর্বোচ্চ ১ ঘন্টা।
তবে এই গলিতেই রাতের বেলায় এক ভাসমান চা বিক্রেতা ষাটোর্ধ্ব তয়নুদ্দিন জানান, লকডাউনে চা নিয়ে বের হইনি। বেশ কয়েকবার চাল ডাল পেয়েছি। কিন্তু ত্রাণ দিয়েতো আর সংসার চলে না। এখন দেশে ত্রাণ দেয়া হয়না। আমার মতে দেশের করোনাও নেই। পেটের দায়ে বের হলেও আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরও জানান, আগে কাচের কাপে চা বিক্রি করতাম এখন বেচি প্লাস্টিকের ওয়ান টাইমে। এতে আগের মত আলাদা পানির বালতি নিয়ে আসা না লাগলেও খরচ বেড়েছে কাপ প্রতি ৫০ পয়সা করে। কিন্তু কিছুতো করার নেই। আমাদেরকেওতো ব্যবসা করতে হবে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে প্রতিদিন করোনার আপডেট জানিয়ে আসছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা। সর্বশেষ (শনিবার) প্রকাশিত বুলেটিনে তিনি জানান, দেশের গত একদিনে নতুন করে ২ হাজার ৭০৯ জনসহ মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ২ হাজার ৬৬ জন।
একইসাথে একদিনে ৩৪ জনের মৃত্যুর পর এখন মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৮১ জন। তাছাড়া সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৩৭৩ জন। এখন পর্যন্ত দেশে করোনামুক্ত হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৯৮ জন।
বার্তাবাজার/এসজে