কাঁচাবাজারে পাঁকা হাতে দাম বাড়ায় কারা?

উপমহাদেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসের সাথে ঝালের স্বাদ মিশে আছে ওতপ্রোতভাবে। মরিচের গুড়া কিংবা বাঁটা যদি একটা খাবারে ঝালের তৈরী করে তাহলে সেই খাবারে ঝালের সুগন্ধ তৈরী করতে দেয়া হয় কাঁচামরিচ। কিন্তু যেই হারে মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় এই পণ্যটার দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে সেটা এখন আর মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নবিত্তের নাগালে থাকছে না।

কিছুদিন আগে পেয়াজ নিয়ে মানুষের মাঝে যে হাহাকার তৈরী হয়েছিল সেটা এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে। শুক্রবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রতি কেজি পেঁয়াজ মিলছে এখন ৪০ টাকার মধ্যেই। তবে কাঁচামরিচের দাম আকাশ ছোঁয়া শুরু করেছে। কম ঝালের কাঁচামরিচের প্রতি কেজির দাম এখন ১৬০ টাকা। আর যে মরিচের ঝাল বেশি তার কদর এর চেয়ে ৪০ টাকা বেশি। পাঁকা ২০০ টাকা এক কেজির দাম!

অথচ কিছুদিন আগেও করোনার প্রভাবে বিক্রি হচ্ছিল না কৃষকদের উৎপাদিত কাঁচামরিচ। কাঁচামালের আড়তে এনে আড়তদারের ভেংচি দেখে নিজের হাতে ফলানো ফসল ফেলে রেখে পঁচানোর দৃশ্যও অনেক জায়গায় দেখা গিয়েছে। যখনই দেশের চরাঞ্চলগুলোতে বন্যার পানি আসলো, মরিচের গাছ ডুবে গেল। তখনই হুরমুড়িয়ে এক টানে ২০০ টাকায় উঠে গেল মরিচের দাম। কৃষকের লাভ কত টাকা এখানে? মনে হয়না খুব যে বেশি। সব পাবে মজুতদার অসাধু ব্যবসায়ীরা। যারা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছিল তারাই।

রসুনের দাম ১৮০ টাকা প্রতি কেজি হয়ে গিয়েছিল। তার খবর একমাত্র ছাপোষা গৃহকর্তারাই রেখেছিল। মিডিয়াতে তেমন জানাজানি হয়নি বলে দেশের মানুষও সয়ে নিয়েছিল। কিন্তু চায়ের দোকানে রাগে গজগজ করতে করতে নিজেরা বিড়বিড় করে প্রতিবাদের বুলি আওড়াতো মূল্য বৃদ্ধির। ওদের কাছে সব তথ্য আছে। কে দাম বাড়ায়, কখন বাড়ে, কিংবা কত বাড়বে সব আগাম বলে দিতে পারে ওরা। কারণ তারাই এসব সিন্ডিকেটের যাঁথাকলে পিষ্ট। রসুনের দাম নিম্নমুখীর সময় বাড়তে শুরু করেছিল আদার দাম। সর্বশেষ গত ঈদুল ফিতরের বাজারে আদার দাম ছিল প্রতি কেজি ২৯০ টাকা। এখন সেটাও কমতির দিকে। কিন্তু ওই যে কাঁচামরিচ! সেটা দিয়েই কাঁটা হচ্ছে মিডলক্লাসের পকেট, ছাড়পোকার মত চুষা হচ্ছে তাদের রক্ত।

এই দেশে কোনো অযুহাতের শেষ নেই। চালের দাম এক দুইটাকা বাড়লেই সব জিনিসের দাম বেড়ে যেত এক সময়। এখন বাড়ে বাজেটের সময় কিংবা বড় বড় দুর্যোগে। আগে চালের দাম বাড়লেও আস্তে আস্তে কমে যেতো। কিন্তু এখন যেটার দাম একবার বৃদ্ধি পায় সেটা আর নীচে নামবে না বলেই ধরে নিয়ে জীবন চালাতে হয়।

বেশ কিছুদিন ধরে সুগন্ধি মশলা হিসাবে অপরিহার্য এলাচের দাম সপ্ত আকাশ পেরিয়ে মহাশূন্য স্পর্শ করার অপেক্ষায় আছে। ১০ গ্রাম এলাচের বর্তমান বাজার মূল্য ৪২ টাকা। ১০ গ্রামে এলাচ হয় ৪/৫টা। প্রতি কেজির মূল্য দাঁড়ায় ৪ হাজার ২০০টাকা! এটা ৬ হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে।

এই দাম ক্রমে বেড়েই যাচ্ছে। কিছুদিন আগে চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমান আদালত কড়া অভিযান চালিয়ে অনেক টাকা জরিমানা করে এইসব মজুতদারদের। কিন্তু লাভ কি? দামতো কমে না। কমবেও না এটা সবাই জানে, মানেও কিছুটা। কারণ এইদেশের এখন যার দাম একবার বাড়ে তা সহজে আর কমতেই চায় না। দাম বাড়িয়ে শামুকের মত খোলের ভেতরে ঢুকে যায়। তাদের ধরতে সরকারও হিমশিম খায়। কারণ তারা বাঁন মাছের মতই পিচ্ছিল। একবার ধরলেও দণ্ড কাটিয়ে আবার একই কাজ করে।

কাঁচামরিচের ঝাল কিংবা এলাচের সুগন্ধ, সবখানেই এখন মুনাফাখোরের আঁশটে একটা গন্ধ লেগে আছে। সেই গন্ধে হড়হড়িয়ে বমি করে ছা-পোষা কিংবা মধ্যবিত্ত আর আধুনিক ভাষায় যাকে বলে মিডল ক্লাস লোকেরা। প্রতিনিয়ত।

বার্তাবাজার/নিমফুল

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর