চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেলেন ভাষা সৈনিক মজিবর রহমান চান মিয়া। এর আগে বুকে হঠাৎ ব্যথা শুরু হলে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার দুস্থ মানবতার হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। কিন্তু মানবতার এই হাসপাতাল একজন ভাষা সৈনিককে চিকিৎসা দেয়নি। পরদিন সকালে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।
মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, গত শুক্রবার রাতে বুকের ব্যথায় কান্না করছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ঘনিষ্ট রাজনৈতিক এই সহচর। পরে সারা রাত তাকে উপজেলার দুস্থ মানবতার হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তির চেষ্টা করা হয়। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে তাকে কোথাও ভর্তি নেওয়া হয়নি। ব্যর্থ হয়ে শনিবার সকালে তাকে শেবাচিমে ভর্তি করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই ৯০ বছর বয়সী এই ভাষা সৈনিক সকাল ১০টার দিকে মারা যান।
মজিবর রহমান চান মিয়ার মৃত্যু পর তার আত্মীয়-স্বজনরা এই ভাষা সৈনিকের বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মজিবর রহমান চান মিয়ার ভাতিজা আশরাফুল আলম বিপুল বলেন, ‘আমি সারা রাত বিভিন্ন ডাক্তার ও ক্লিনিকে দৌড়েও আমার চাচাকে ভর্তি করাতে পারি নাই।
আগৈলঝাড়া দুস্থ মানবতার হাসপাতালে মুচলেখা দিয়ে ভর্তি করাতে চেয়েছি যে, তার মৃত্যুতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। এরপরও ওই মানবতার হাসপাতালে আমার চাচার চিকিৎসার কোনো ব্যাবস্থা হয়নি। মানবতার হাসপাতালের এ কেমন মানবিকতা! একজন ভাষা সৈনিক হয়েও মরার আগে চিকিৎসা পেল না এটাই আমাদের জন্য বড় দুঃখের। তিনি দেশ ও জাতির জন্য বিয়ে প্রর্যন্ত করেননি।’
এ বিষয়ে দুস্থ মানবতার হাসপাতালের পরিচালক ডা. হিরন্ময় হালদার বলেন, ‘ওইদিন আমি হাসপাতালের দায়িত্বে ছিলাম না তাই ওই ব্যাপারে আমি বক্তব্য দিতে পারব না।’ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মনির ফকির বলেন, ‘আমাকে জানানোর পরে ডা. মালিহা মহসিনের পরামর্শ নিতে বলেছি। এরপরে ডা. মালিহা মহসিনের পরামর্শ নেয় ওই রোগীর পরিবারের লোকজন।’
এ বিষয়ে ডা. মালিহা মহসিন বলেন, ‘রোগীর যে সমস্য তার চিকিৎসা আমাদের এখানে নেই, তাই তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।’ আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বখতিয়ার আল মামুন বলেন, ‘সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলে তিনি বেঁচে থাকতেন। বেসরকারি হাসপাতালের এ ধরনের অমানবিকতা সহ্য করা হবে না। ওই পরিবার থেকে অভিযোগ করা হলে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলান বলেন, ‘এ বিষয়টি আমার জানা নেই। ভাষা সৈনিকের পরিবার থেকে আমার কাছে অভিযোগ করলে বিষটি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’
কেএস/বার্তাবাজার