কিশোরগঞ্জের বাজিতহপুরে নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর ইজি বাইক চালক রাব্বী (১৮) নামে এক যবুকের ক্ষত বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের হাফানিয়া গ্রামের একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রাব্বী একই ইউনিয়নের রুস্তমপুর গ্রামের নিলু মিয়ার ছেলে।
সে গত ৭ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে (ব্যাটারি চালিত) ইজি বাইকসহ নিখোঁজ হয়। নিহত রাব্বীর পরিবারের দাবী, একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী হাফানিয়া গ্রামের বাদল মিয়ার মাদকাসক্ত ছেলে সাচ্চু মিয়া ৭ জুলাই বিকেলে রাব্বীর ইজি বাইকটিকে রিজার্ভ হিসেবে ভাড়া করে শহরে নিয়ে যায়। তাদের ধারণা ছিল, সন্ধ্যার পর অন্ধকারে ইজি বাইকটি চুরি করে নিয়ে যেতে চাইলে বাধাঁ দেয়ায় রাব্বীকে সাচ্চু মেরে ফেলেছে। একই সাথে ঘটনাটি দামাচাপা দিতে তার লাশ গুম করা হয়েছে। ঘটনার দিন থেকে সাচ্চু পলাতক ছিল।
অবশেষে রাব্বির পরিবারের ধারণাই সঠিক হলো। তাছাড়া প্রথম থেকেই সাচ্চুর বিরুদ্ধে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করলেও বিষয়টি আমলে নেয়নি থানা পুলিশ। ফলে ইজি বাইকসহ রাব্বী নিখোঁজের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কাউকে আটক করতে পারেনি পুুলিশ। এদিকে সকালে হাফানিয়া গ্রামে নিখোঁজ রাব্বীর মরদেহ সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে পড়ে রয়েছে। এমন খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা ছুটে আসে। পরে রুস্তমপুর গ্রামের উত্তেজিত লোকজন হাফানিয়া গ্রামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ দু’টি টিনের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ভাঙচুর করে।
রাব্বীর বাবা নিলু মিয়া জানায়, অবশেষে তাদের ধারণাই সঠিক হলো। কিন্তু আমরা গরীব বলে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। আজ ঘটনা ঠিকই সত্যি হলো। আমি আমার বুকের মানিক রাব্বীকে হারালাম। নিহতের পরিবার ও স্থানীদের অভিযোগ, সাচ্চুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও তার স্বজনরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং রাব্বীর পরিবার দারিদ্র হওয়ায় পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেয়নি। এমন কি থানায় সাধারণ ডায়েরী করার সময় রাব্বীর বড় ভাই সাদেক মিয়া বার বার সাচ্চুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়নি। ফলে অভিযুক্ত সাচ্চু ও তার পরিবার-পরিজনরা নিরাপদে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে বাজিতপুর থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, সেদিন রাব্বী নিখোঁজ হওয়ায় সাধারণ ডায়েরী হিসেবে নথিভূক্ত করা হয়। তাকে কেউ অপহরণ করেছে, এমন অভিযোগ তারা করেনি। পরে বিষয়টি তদন্ত করতে গেলে পুলিশ সাচ্চুর নামটি জানতে পারে। তাছাড়া ঘটনার পর সাচ্চু পলাতক থাকার কারণে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও তিনি আরও জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
কেএস/বার্তাবাজার