চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে এক নারীকে গুপ্তধন পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে কথিত কবিরাজ ও অন্ধ হাফেজ লিয়াকত আলীকে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃত লিয়াকত আলী বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের পাইরং এলাকার মো. জাকির আহম্মদের ছেলে। প্রতারণার অভিযোগ স্বিকারও করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভুঁইয়া জানান, কবিরাজ হাফেজ মোহাম্মদ লিয়াকত আলী একজন ভণ্ড ও প্রতারক। ওই নারীর ছেলের সংসারে অশান্তি দূর করার জন্য সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়েছে। পরে ওই নারীকে গুপ্তধন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আটকের পর পুলিশের কাছে সব স্বীকারও করেছে হাফেজ মোহাম্মদ লিয়াকত আলী।
কবিরাজ পুনরায় ওই নারীকে জানান, তিনি হাজিরা দেখে নিশ্চিত হতে পেরেছেন তার দেবরের জমির নিচে প্রায় সাড়ে তিন শ কোটি টাকার গুপ্তধন আছে। এসব গুপ্তধন তিনি সংগ্রহ করে দিতে পারবেন। এই গুপ্তধন পাইয়ে দিতে তিনি মোটা অংকের অর্থ দাবি করেন। পরে তারা ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন এবং ধাপে ধাপে ৬৫ লাখ টাকা কবিরাজের হাতে তুলে দেন তিনি।
তারপরও কবিরাজ অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। ৬৫ লাখ টাকা দেওয়ার পর গুপ্তধন না পাওয়া পর্যন্ত আর টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন ওই নারী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লিয়াকত আলী হুমকি দেন, টাকা না দিলে তার ছেলের সংসারে আরো ক্ষতি হবে বলেও জানান ওসি আবুল কাশেম ভুঁইয়া ।
কবিরাজের কাছ থেকে এ ধরনের হুমকি পেয়ে বিষয়টি পাঁচলাইশ থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে আলফালাহ গলি এলাকা থেকে লিয়াকতকে গ্রেফতার করে। সেই সঙ্গে তার বাসা থেকে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পগুলো উদ্ধার করে।
লিয়াকত আলী অন্ধ হিসেবে ভান ধরেন। কিন্তু তিনি অন্ধ নন। ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। নতুন বউকে ৪০ লাখ টাকা দিয়েছেন ফ্ল্যাট কেনার জন্য। কিন্তু টাকা পাওয়ার পর ওই স্ত্রী লিয়াকতকে তালাক দিয়ে চলে যায় বলেও ওসি আবুল কাশেম।
বার্তাবাজার/এসজে