সারাদেশে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষুদ্র প্রান্তিক গরু খামারীদের মত গাইবান্ধা সদর উপজেলাতেও গরু খামারীরা আসন্ন ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে যাবতীয় সাংসারিক খরচ মেটানোর একমাত্র অবলম্বন হিসেবে গরু-ছাগল লালন-পালন করে আসছে। লকডাউনে কর্মহীন ও অন্যদিকে গো খাদ্যের চড়া মূল্যের কারণে আসন্ন ঈদের মাস খানেক আগে থেকেই খামারীরা তাদের গরু-ছাগল স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রির জন্য তুলতে শুরু করেছে।
গাইবান্ধার সাঘাটা ভরতখালী ,লক্ষিপুর ও দাড়িয়াপুর বেশ কিছু হাটে সরেজমিনে দেখা যায় যে, অনেক খামারী গরু-ছাগল বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে আসলেও সঠিক মূল্য না পাওয়ায় তা ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই জেলার অনেকেই নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে ও আসন্ন ঈদে বিক্রির আশায় গরু লালন-পালন করে আসছে কিন্তু করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পরায় এবং গো খাদ্যের অস্বাভাবিক মুল্যের কারণে ঈদের অনেক আগেই বিক্রির জন্য গরু-ছাগল হাটে আনছে। কিন্তু সারাদিন অপেক্ষা করেও হাটে ক্রেতা সমাগম কম থাকায় এবং গরুর কাংঙ্খিত মুল্য না পাওয়ায় গবাদিপশুগুলো নিয়ে বিপাকে পড়েছে ।
এক খামারি জানান, দূর-দুরান্ত থেকে হাটে পাইকাররা আসছে না,তাই গরু লালন-পালন করে যে খরচ হচ্ছে সে খরচও গবাদিপশু বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে না। খামার চালাতে গিয়ে ইতোমধ্যে ‘এনজিও’ থেকে ঋণ ও অনেকের কাছে ধার-দেনা কছি। এমতাবস্থায় গরুর সঠিক মূল্য না পেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে।
দাড়িয়াপুরহাটের ইজারাদার মোস্তাক আহমেদ রঞ্জু জানান, পহেলা বৈশাখ থেকে ইজারাদার মনোনীত হয়েও করোনার কারণে দীর্ঘ দুই মাস হাট-বাজার বন্ধ থাকায় এবং বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে সরকার নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে হাটের কার্যক্রম চালু করলেও আশানুরুপ ক্রেতা সমাগম না হওয়ায় বছর শেষে পুঁজি হারিয়ে সর্বশান্ত হওয়ার আশংকা করছি।
জেলা প্রাণী সম্পদ কমকর্তা মোঃ আবদুস ছামাদ জানান, কোরবানির পশু দেশের বিভিন্ন স্হানে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটের কার্যক্রম চালু রাখতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
বার্তা বাজার / ডি.এস