শোকের গর্তে শুয়ে কাঁদি ।। রওনক রনিক

উহান থেকে – শেনঝেন, বেইজিং হয়ে -গ্রেটওয়ালের ফোঁকল গলে-এসেছে
জাবলের রক্ত শুষে। গোরগানের মহাপ্রচীরে দেখি বিভৎস ক্যালিওগ্রাফী।
পিসার হেলানো টাওয়ার দেখে হেসেছে বিদ্রুপের হাসি।
মিলান ,তুরিন ,জেনোয়া আর ভেনিসের পথে পথে
মৃত্যুর লাগাতার মৌন মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে – আরও দূরে
বার্কিংহাম প্যালেসের সব ক’টি প্রকোষ্ঠ ঘুরে ঘুরে;
স্ট্যাচু অব লিবার্টিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে,এসেছে
হোয়াইট হাউসকে ভেংচি কেটে দ্রোহে- বিদ্রুপে।
ল্যুভ মিউজিয়ামে মোনালিসার পাঁচশো বছরের রহস্যময় হাসি
আজও অমলিন, তবু দলছুট সব শত সহস্র দর্শনার্থী।
ষড়ভুজাকৃতি ফ্রান্সের সব দিকে যেন কার্ফিউ।
আজন্ম বোবা জার বেলটার দমবন্ধ বিলাপ শুনেনি কেউ।
তোমার আগমনে জ্যামে পড়েছে অলিম্পিকের মশাল- দুঃসময়ের ভীড়ে,
টোকিওর আকাশে যেন আজ সুদীর্ঘ মহানিশা।
নিভে গেছে সিডনির সংগীত অপেরা।
সমগ্র ভূখন্ড আজ এক অখন্ড আঁধার।
পেঁয়াজের খোসার মতো স্পেনের ফুটবল গ্যালারীর পরতে পরতে
কী বিভৎস নিঃশব্দ ক্রন্দন! ধরিত্রীর সব জনপদ ঘুরেফিরে
কুসুম বসন্তের একাদশী চাঁদের উজ্জ্বল প্রভায় তুমি এলে
বাংলায় ,আমার প্রাণের বাংলায় । পৃথিবীর সব
সভ্য নাগরিকের মতো আমরাও তেমনই বিপুল সমারোহে
তোমাকে জানিয়েছি উষ্ণ অভিবাদন । অতঃপর –
রাজধানী ঘুরে বাসে,স্টিমারে ও রেলে
প্রাসাদে কিংবা বস্তিতে; শপিংমলে,পার্কে ও ফুটপাতে
সবখানে ; অবশেষে সকল নগরে,শহরে ও গ্রামে –
সমুদ্র সৈকতে -কোথায় যাইনি তোমায় লয়ে !
বহু সযতনে হাতে,ঠোঁটে ও বুকে রেখেছি তোমায়
সন্তর্পণে – সানুগ্রহ অাতিথেয়তায়।
ফুসফুসের ভূমিকম্পে দূষিত বায়ুর নিঃশব্দ তুফান
আততায়ী হয়ে চূর্ণ করেছে কত ঘর,কত আপন কিংবা পর;
সাধ্য কার হিসেব কষে তার।
সেল্ফ কোয়ারান্টাইন,হোম কোয়ারান্টাইন, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং,
আইসোলেশন, শাট ডাউন কিংবা লক ডাউন কিসের কি !
যতবার হয়েছি সচেতন অসচেতন তারও চে’ বেশি।
শুনেছি যা- বলেছিও তাই ,করিনি কিন্তু তা-
আছে যে আমার চপল- চঞ্চল বিসর্পী মুক্ত স্বাধীন দু’টি পা।
তোমাকে নিয়েছি ঘর থেকে বাহির
এনেছি তোমায় বাহির হতে ঘর।
এক থেকে দুই ,দুই থেকে চার ,চার থেকে চারশো –
এভাবে একাদিক্রমে তোমায় দিয়েছি অসীমের সন্ধান। এখন-
মৃত্যুর মর্মর ধ্বনি শুনি করিডোরে
কখনও দরোজায় মৃদু নক করে।
কতোবার বলেছি –
না। সাবধান! খুলোনা ছিটকিনি।
শুনোনি, হে বঙ্গজননী-তবু তুমি শুনোনি।

আমার সোনার স্বপ্নে এখন বিলি কাটে দুঃস্বপ্নের হাত।
সজোরে দু’হাতে খামচে ধরে পদ্মা সেতুর সাতাশতম স্প্যান।
তুমি এতোটা উন্মার্গগামী ! অকৃতজ্ঞ ! ভাবিনি –
হাতে ছিলো তোমার ত্রিশূল লক্ষ-কোটি
বুঝিনি – সত্যিই বুঝিনি।

শোকের গর্তে শুয়ে কাঁদি
তাই মস্কোর জার বেলটার মতো-
আরও একশো বছর।।

কবি-সহকারী অধ্যাপক
অর্থনীতি বিভাগ
গুরুদয়াল সরকারি কলেজ
কিশোরগঞ্জ।

নিমফুল।বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর