লক্ষ্মীপুরে ঈদকে সামনে রেখে চলছে গরু মোটা-তাজাকরন

অধিক লাভের আশায় শেষ দিকে লক্ষ্মীপুরে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু মোটা-তাজা করণে ব্যস্ত সময় পার করছে খামারীরা। প্রতিবছর কোরবানের ঈদকে ঘিরে তিন চার মাস আগে বাজার থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গরু কিনে তা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মোটা-তাজা করে থাকে। পরে এসব গরু কোরবানের হাটে তা বিক্রি করে। এতে লাভবানও হচ্ছে খামারীরা।

তবে এবার সে সুফল পেতে কষ্ট হবে বলে মনে করছে তারা। করোনার কারনে পশুর চাহিদা কমে যাচ্ছে। এতে লোকশান গুনতে হতে পারে তাদের।

জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শাকচর, টুমচর ও চররমনী মোহন এলাকার প্রায় আড়াই শতাধিক খামারী রয়েছে। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু মোটা-তাজা করণে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখন। ঈদকে ঘিরে এসব গ্রামে চলে গরু পরিচর্যা আর মোটা-তাজাকরনের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ।
কোন ক্ষতিকর হরমোন ইনজেকশন বা রাসানিক দ্রব্য ব্যবহার না করেই সম্পূর্ন প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরু মোটা-তাজাকরন করা হচ্ছে। এতে করে আর্র্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা।

এছাড়া অধিক লাভ হওয়ায় গরু মোটা-তাজাকরন কর্মসূচি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এসব এলাকায়। প্রতিটি খামারে ৫০ থেকে ৬০ টি গরু রয়েছে।

খামারীরা জানান, কোরবানি ঈদের হাটে বিক্রির আশায় প্রায় ৪ মাস আগে বিভিন্ন বাজার থেকে কম দামে গরু কিনে আনে। তা লালন পালন এবং প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে মোটা-তাজাকরনে রাত দিন কাজ করছেন। এসব গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে চালের গুড়া, চাল-ডাল খিচুড়ি, ভাতের মাড়, খৈলসহ বিভিন্ন ধরণের প্রাকৃতিক খাবার। প্রাকৃতিক উপায়ে মোটা-তাজা করা গরুর প্রতি দেশের সাধারন মানুষের ইতিবাচক মনোভাব তৈরী হয়েছে।

এবারের ঈদেও প্রায় দুই শতাধিক খামারে কয়েক হাজার বিক্রয় উপযোগী গরু প্রস্তুত করে রেখেছে খামারীরা। তবে একে তো করোনা আবার কিছু কিছু খামারে গরুর জ্বর ও হিট স্টোকের কারণে বিপাকে পড়তে হচ্ছে অনেক খামারীকে। এমতবস্থায় টেনডামল ভেট নামক ঔষধ খাইয়ে তা প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন তারা।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জানান, জেলায় প্রায় আড়াই শতাধিক গরু খামারে ২৫ হাজার গরু প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মোটা তাজাকরণ করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে বাহিরের গরু না আসলে খামারীরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি এসব গরু জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাহিরেও বিক্রি করা যাবে বলে মনে করেন তারা।

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর