সাভারে মাদক ব্যবসায়ীর চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও নির্যাতনে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের কুমারখুদা মৌজার শামপুর, আবাসন, কমলাপুর, বন্ধু মার্কেট, ফুল মার্কেট ও গোলাপগ্রাম আবাসিক লিজি সোসাইটি এলাকার চিহ্নিত মাদক সম্রাট, চাঁদাবাজ ও প্রতারক কুতুব হিলালী ও মামলাবাজ হারুনের নেতৃত্বে ৮-১০ জন সহযোগী নিয়ে একটা চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, কুতুব হিলালী এলাকায় মাদকসেবী ও মাদক ব্যাবসার সাথে জড়িত এবং হারুনের কাজ হলো জমি দখল করা। যদি কেউ জমি দখলে বাঁধা দেয়, তাহলে তার ওপর নেমে আসে হামলা, অতঃপর মিথ্যা মামলা।
নুর হোসেন নামের একজন জানায়, তাঁর নিকট চাঁদা দাবি করে কুতুব হেলালী ও হারুন। এ সময় নুর হোসেন চিৎকার করলে এলাকার লোকজন তাকে বাঁচাতে চলে আসে।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর গোলাপগ্রাম লিজি সোসাইটির লিজিরা যখন দুপুরের খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেলেন, তখন নুর হোসেনের চিৎকার শুনে সবাই বাসা থেকে বের হয়ে দেখতে পান- চাঁদাবাজ কুতুব হিলালী ও মামলাবাজ হারুনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করে। পরে এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া করলে চাঁদাবাজরা পালিয়ে যায়। এসময় রক্তাক্ত অবস্থায় এলাকাবাসী নুর হোসেনকে সাভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তাঁর জীবন রক্ষা চেয়ে নুর হোসেন সাভার থানায় গত ১০ জুলাই লিখিত অভিযোগে করেন।

অপর এক ভূক্তভোগী সিনিয়র সাংবাদিক মমিনুর রহমান বিশাল অভিযোগ করেন, গত বছর নিজেকে কবি হিসেবে পরিচয় দিয়ে কুতুব হিলালী তাঁর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। এরপর সোসাইটির গদ্যঘর প্লট হতে ১০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে দেয়ার কথা বলে তার নিকট হতে সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় কুতুব হিলালী। এরপর জমি বুঝে না দিয়ে টালবাহানা শুরু করে এই প্রতারক। সম্প্রতি মমিনুর রহমান বিশাল তার নিকট জমির জন্য চাপ প্রয়োগ করলে সে টাকা ও জমি দিতে অস্বীকার করে উল্টো তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডাইরী করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক মমিনুর রহমান বিশাল।
এখানেই শেষ নয় চাঁদাবাজ কুতুব হিলালী ও মামলাবাজ হারুনের অপকর্ম! এই মাদক ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে আরও বহু নিরীহ ভূক্তভোগীর!
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে এলাকায় মাদকের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে কুতুব হিলালী। তাদের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে হারুন মিথ্যা মামলা করে ভূক্তভোগী ও প্রতিবাদকারীদের হয়রানী করে বলেও জানা গেছে। তাই তাকে অত্র এলাকার মানুষেরা নাম দিয়েছে মামলাবাজ হারুন!
শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অবিলম্বে মাদক সম্রাট, চাঁদাবাজ কুতুব হিলালী-মামলাবাজ হারুন ও অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রীত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বার্তা বাজার / ডি.এস