নাটোরের বড়াইগ্রামে করোনাকালে চাকরি হারিয়ে পরিবারের লোকজনের নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন বেবী কস্তা নামের এক খৃষ্টান নারী। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বনপাড়া বাহিমালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, ১৫/১৬ বছর আগে স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হলে আর বিয়ে করেননি বেবী কস্তা। এরপর রাজধানীর গুলশানে একটি আমেরিকান পরিবারের বাড়িতে চাকরি করতেন। করোনায় পরিবারটি আমেরিকা চলে গেলে তার চাকরি চলে যায়। তিন মাস ধরে চাকরি হারিয়ে সে ভাইয়ের বাড়িতেই অবস্থান করছিল।
মা-বাবা হারা বেবী কস্তা কর্মহীন হয়ে পরায় তার ভাইয়ের পরিবারের লোকজন সবসময় কটু কথা শোনাতো এমনকি মারধরও করতো। এজন্য বেবি কস্তা হতাশায় ভুগছিলেন এবং ফেসবুকে আত্মহত্যা করবে এমন ইঙ্গিত দিয়ে নানাবিধ পোস্ট দিয়ে আসছিলেন।
সর্বশেষ শুক্রবার রাতে স্থানীয় এক সাংবাদিককে হতাশার কারণ জানিয়ে ম্যাসেঞ্জারে নানা বিষয় লিখে জানায় বেবি কস্তা। পরবর্তীতে ফেসবুকে নিজের ২৬টি ছবি পোস্ট দিয়ে তিনি স্ট্যাটাস দেন ‘আমি মরে গেলে তোরা এগুলো দেখিস’। সাংবাদিক তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে শনিবার বিকেলে দেখা করতে চেয়েছিল। তার আগেই দুপুরে বেবি কস্তা আত্মহত্যা করেন।
বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম জানান, ‘ঘরের তীরের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে জেনি বেবি কস্তা আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। আত্মহত্যার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।’
বার্তাবাজার/এসজে