পঞ্চগড়ে এমপির বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. সোহেল রানার বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার নালাগঞ্জ গ্রামের ছয় নাগরিক। তিনি সু-সংঘবদ্ধ বাহিনী গড়ে তোলে জমি দখলসহ মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করছেন।

শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ আনা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ময়নুর রহমান প্রধান তরু, মোছা. মমতাজ দৌলতানা,মাহশিকুর রহমান টুকু, মসলেহার রহমান ফুলু, মো. মোজাফর রহমানে পক্ষে মো. মখলেছুর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

এসময় প্রকৃত অংশীদাররা উপস্থিত ছিলেন। এসময় ভুক্তভোগীরা সংসদ সদস্যসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৬০ সালের ২০ জুলাই পাঁজজন অংশীদারের সমন্বয়ে গয়েশ্বরপুর এগ্রিকালচার ফার্ম কোম্পানী লিমিটেড নামে এই ফার্মটি চালু করা হয়। ম্যানেজিং পার্টনার ছিলেন মশিউর রহমান। ১৯৬২ সালে ফার্মটি ৮টি খতিয়ানে এসএ রেকর্ড হয়। সেই থেকে খাজনা প্রদান করে ভোগ দখল করে আসছি। কিন্তু ২০১০ সালে একই এলাকার লোকমান হোসেন গং জাল কাগজপত্র তৈরি করে পঞ্চগড় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে বাদী হয়ে ৩৪/১০ অন্য মামলা দায়ের করেন। বাদীর তদবির অভাবে আদালতের বিচারক মামলাটি খারিজ করে দেন। বাদী মামলাটি নতুন করে আরজি দাখিল করেন। আরজিতে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে দাখিল করায় মামলাটি খারিজ করে নিস্পত্তি করেন। পরবর্তীতে বাদীপক্ষ মামলাটি চালু করার জন্য হাইকোর্টে আবেদন করলে হাইকোর্ট মামলাটি জেলা যুগ্ন জজ আদালতে চালু করে ৬০ দিনের মধ্যে নিস্পত্তি করার নির্দেশ দেন। মামলার কাগজপত্র সঠিক না থাকায় পরাজয়ের ভয়ে পুন:দাখিল সাপেক্ষে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করলে আদাল মামলাটি প্রত্যাহারের আদেশ দেন।

মামলাটি চলমান অবস্থায় সুবিধা করতে না পেরে বাদী পক্ষ সাবেক সেনা কর্মকর্তা, পঞ্চগড় জেম জুট লিমিটেডের কর্মকর্তা ও বর্তমানে নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. সোহেল রানার অনুকুলে ১০.২৫ একর জমি বাদীপক্ষ লোকমান হোসেন গং ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর ভুল দাখিলা, ভুল ওয়ারিশান ও ভুল খতিয়ান উপস্থাপন করে ১০ একর জমি বিক্রয় করেন। ১৯৬২ সালের এসএ রেকর্ডে বাদীপক্ষের দাবীকৃত সম্পদে অংশীদারিত্ব না থাকায় ইউপি চেয়ারম্যান জমি রেজিস্ট্রি না করার জন্য টুনিরহাট সাব রেজিস্টারকে লিখিতভাবে অনুরোধ করেন। বিষয়টি আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকে অবহিত করা হয়। আদালত মামলা চলমান অবস্থায় জমি বিক্রি, হস্তান্তর আইন পরিপন্থী হওয়ায় বাদীপক্ষ ও ক্রেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। জমির ক্রেতা সোহেল রানা ২০১৩ সালের ১০ নভেম্বর বাদীপক্ষের সহযোগিতায় জমি দখলের চেষ্টা করলে আমরা বাধা দেই। কিন্তু বাদীপক্ষ একজন বিধবা মহিলার ঘরে আগুন লাগিয়ে ১৫ জনের নামে ওই বছরের ১৪ নভেম্বর একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন।

পরবর্তীতে মেজর (অব.) মো. সোহেল রানা বর্তমানে তিনি নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যের মদদে লোকমান হোসেন গং পুণরায় নতুনভাবে জাল কাগজপত্র তৈরি করে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ৮৬/২০১৯ মামলা আনয়ন করেন। যা চলমান রয়েছে। আইনজীবীর মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলাটি পরিচালনা করছি। এমন অবস্থায় এ মামলায় হেরে যাওয়ার ভয়ে গত ২৮ মে, ৩ জুন ও ৬ জুলাই এমপি সোহেল রানা তার বাহিনী নিয়ে জমিতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। স্থানীয় ছয়জনসহ অনেকে এ কাজে সহযোগিতা করছেন।

মোখলেছুর রহমান আরও বলেন, সংসদ সদস্য সোহেল রানার প্রভাব খাটিয়ে লোকমান হোসেন গংকে সহযোগিতা করে পুণরায় জমি দখলের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। মহামারী করোনা ভাইরাসে যখন দিশেহারা মানুষ, ঠিক সেই সময়ে একজন সংসদ সদস্য ভূমি দখলসহ আইন গর্হিত কাজে লিপ্ত তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমাদের বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি ও হয়রানি করে আমাদের জীবনকে দূর্বিসহ করে তুলেছে। এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় একাধিক জিডি ও ফৌজদারি মামলা এবয়ং প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করেছি। ভূমিদস্যু সংসদ সদস্যসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর