নদের গর্ভে বিলীন পুরো ১টি গ্রাম

কুড়িগ্রামে গত ২৭ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত টানা এক সপ্তাহের আকস্মিক বন্যায় জেলার ৯ উপজেলার ৪২০টি চরের বাসিন্দারা হয়ে পড়েছিলো পানিবন্দি। বন্যার পানিতে অনেক ভিটেমাটি তলিয়ে গেছে। সর্বসান্ত হয়েছে অনেক পরিবার।

বন্যার পানির জন্য নষ্ট হয়েছে ফসলি জমিসহ বিঘায় বিঘায় পাট ক্ষেত। লোকজন অপরিপক্ক পাট কেটে নিয়ে যাচ্ছেন রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য। জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে একটি গ্রাম। গ্রামটি উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওর্য়াডে ছিলো। ঢাউয়ারকুটি গ্রামটিতে ছিলো ১ টি মসজিদ,১টি বাজার এবং ৮০ থেকে ১০০ টি পরিবারের বাস। বন্যার পানির কারণে এই গ্রামটিতে দেখা দিয়েছে গবাদি পশুর নানান পানিবাহিত রোগ, যার ফলে আসন্ন কোরবানী ইদে পশু বিক্রি করতে না পারায় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন এই গ্রামের বাসিন্দারা।

এদিকে বন্যার পানিতে গ্রামটি নদের গর্ভে বিলীন হওয়ার ফলে গ্রামের বাসিন্দারা বসবাস করছেন খোলা আকাশের নিচে। কেউ কেউ মাদ্রাসার মাঠে ও পাকা রাস্তার উপরেও বসবাস করছেন। গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ছামাদ আলী(৫৫) বলেন,’হঠাৎ করে বন্যার পানি আসায় আমরা ঘর-বাড়ি রক্ষা করতে পারি নি”।

আরেক বাসিন্দা নৌকা চালক বেলাল হোসেন (৩২) বলেন,”আমাদের দুই ভাইয়ের ভিটায় ৬টা ঘর ছিলো সব দুধ কুমার নদের গর্ভে চলে গেছে ” লাইলি বেগম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন,” বানত সোগে ভাসি গেছে,বাড়ি-ভিটা নাই মোর,৭ দিন থাকি মানষের জমিত আছি,দুই বেটিক নিয়া খুব অভাবত আছং”
এরকম আরো বাসিন্দা রয়েছেন এই গ্রামের যারা ঘর-বাড়ি হারিয়ে এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

গ্রাম বিলুপ্ত হবার পরেও,এখন পর্যন্ত যারা বাড়ি-ঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন তারা কোন ধরনের সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পাননি বলেও অভিযোগ করেন গ্রামের বাসিন্দারা।

আন্ধারীঝাড় ইউনিয়ন পরিষদ এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ জাফর আলী বলেন,”পানি বেশী থাকায় আমরা গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে ত্রান নিয়ে পৌঁছতে পারছি না,আশা করি আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে আমরা ত্রান দিতে পারবো বাসিন্দাদের।” এ বিষয়ে জানার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফিরুজুল ইসলাম এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে, ব্যস্ততার কারনে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর