জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে নজর নেই সরকারের

৫ বছর ধরে দেশে বছরে ২০ লাখ করে জনসংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু তার লাগাম টেনে ধরতে অনেকটাই উদাসীন সরকার। এ অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের।

তারা বলছেন, জনসংখ্যা নীতিকে যুগোপোযোগী না করা, বার বার স্লোগান বদলের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া জনমিতিক সুফলের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের। এমন অবস্থায় আজ সারাদেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস।

দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করে ১ হাজার ১২৫ জন। অতি জনঘনত্ব বাংলাদেশের জন্য এখন বড় সমস্যা।

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে দেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি ২৫ লাখ ১৮ হাজার। তবে পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব বলছে, ২০১৫ সালে জনসংখ্যা ১৫ কোটি ৮৯ লাখ, ২০১৬তে ১৬ কোটি ৮ লাখ, ২০১৭তে ১৬ কোটি ২৭ লাখ,২০১৮তে ১৬ কোটি ৪৬ লাখ এবং ২০১৯ সালে জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৬৫ লাখ। অর্থাৎ গত ৫ বছর ধরে দেশে ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ হারে জনসংখ্যা বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নানা অসঙ্গতিতে ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশের জনসংখ্যা নীতি। ২০১৮ সালে এক সন্তানের নীতি থেকে সরে এসেছে সরকার। স্লোগান বদলে আবার ফিরে এসেছে ‘ছেলে হোক মেয়ে হোক, দুটি সন্তানই যথেষ্ঠ’।

ঢাবি জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মইনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যে জনসংখ্যা নীতি রয়েছে সেই নীতিকে এখনো আমরা বলবো না যে আপগ্রেডেড অবস্থায় রয়েছে। আমার জানামতে জাতীয় জনসংখ্যা কাউন্সিলের ২০১০ এরপর আর কোন কাউন্সিলই অনুষ্ঠিত হয়নি।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব বলছে, দেশে এ মুহূর্তে ১৫ থেকে ৪৯ বয়সের মধ্যে পুরুষ রয়েছে ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং নারী রয়েছেন ৫৫ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে দেশের মোট জনসংখ্যার ৫১ শতাংশই অন্যের ওপর নির্ভরশীল।

বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের সংখ্যা বেশি হওয়া বা জনমিতিক সুফল ভোগের আশায় জনসংখ্যা বেড়ে চলাকে আমলে নিচ্ছে না সরকার। জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল বলেন, আমাদের বর্তমান জনসংখ্যায় যুবক বা প্রাপ্ত বয়স্কের সংখ্যাটা যথেষ্ট আছে। কিন্তু এই সংখ্যাকে সক্ষম করে না তুললে রপ্তানি করে আমাদের আয় হবে।

এদিকে, আগামী বছর দেশে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ষষ্ঠ আদমশুমারি করা হবে বলে জানিয়েছে পরিসংখ্যান ব্যুরো।
ডিবিসি নিউজ

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর