বরগুনা সদর হাসপাতালে জনগনের অর্থায়নে দুটি হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা মেশিন স্থাপন করা হয়। এতে করোনা আক্রান্ত শ্বাসকষ্টের রোগীদের আইসিউ বা ভেন্টিলেটরের কাছাকাছি পর্যায়ে সাপোর্ট দেয়া যায়। বরগুনার সচেতন নাগরিক সমাজের কয়েকজন ব্যক্তি আর্থিক সহায়তা চেয়ে ফেসবুক পোস্ট করেন ও ব্যাংকে “আমাদের জন্য আমরা” নামে একটি ব্যাংক হিসাব খুলেন। সেখানে সহায়তায় এগিয়ে আসেন নানা শ্রেনী পেশার মানুষেরা। তারা বলছেন প্রতিটি জেলা উপজেলার বিত্তবানরা করোনার এই দুর্যোগে এগিয়ে আসলে প্রতিটি হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা দেয়া সম্ভব তাতে ডাক্তাররাও চিকিৎসা দিতে পাচ্ছেন উৎসাহ।
বরগুনা জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তিনশ’ ছাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেছেন পাঁচ জন। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে একটি মাত্র হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা মেশিন রয়েছে যা রোগীর সংখ্যার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। প্রায় সময় করোনায় আক্রান্ত অতি শ্বাস কষ্ট রোগীদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে বরিশাল বা ঢাকায়। গত এক মাস আগে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল কতৃপক্ষ সেন্ট্রাল অক্সিজেন স্থাপন করেন। জটিল করোনা রোগীদের যখন সাধারণ অক্সিজেন সিলিন্ডারে কাজ হয় না, আইসিউ বা ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন পরে তখন এই মেশিন দিয়ে আইসিইউ বা ভেন্টিলেটরের কাছাকাছি পর্যায়ের সাপোর্ট দেওয়া যায়। সাধারণ সিলিন্ডারের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে সাধারণত ১৫ লিটারের বেশি অক্সিজেন দেওয়া যায় না। এ কারণে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে তখন আইসিইউ প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই মেশিনের মাধ্যমে একজন রোগীর জন্য প্রতি মিনিটে ৭০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন সরবরাহ করা যায়।
বরগুনা সচেতন নাগরিক সমাজের কয়েকজন ব্যক্তি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে দুটি হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা মেশিন কিনে দিবেন বলে আর্থিক সহায়তা চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয় এবং ব্যাংকে ‘আমাদের জন্য আমরা’ নামে একটি হিসাব খোলা হয় যেখানে নানা শ্রেনী পেশার মানুষ দুই শত টাকা থেকে শুরু করে লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা করেন। এতে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা জমা হয়। আর এই টাকা দিয়েই ক্রয় করা হলো ২ টি ‘হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা’ মেশিন। একটি হস্তান্তর করা হয়েছে আরেকটি ১০ জুলাই হস্তান্তর করা হবে।
এই মেশিন কিনে দেয়া উদ্যোক্তা সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যক্তিরা বলছেন প্রতিটি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিত্তবান ব্যক্তিরা যদি করোনার এই দুর্যোগে এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে নিজ এলাকায় ভালো চিকিৎসা দিতে পারবে ডাক্তাররা তাই সকল বিত্তবানদের প্রতি এগিয়ে আসার আহবান জানান।
এমন মহান উদ্যোগের প্রথম ৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে আমাদের জন্য আমরা নামের হিসাব খোলেন বরগুনার প্রবীণ সাংবাদিক আবদুল আলিম হিমু। তিনি বলেন মোট ৫ টি মেশিন ক্রয় করার ইচ্ছা তাদের এবং তার দাবি হাসপাতাল কতৃপক্ষ যেন পর্যাপ্ত অক্সিজেন মজুদ ও সরবরাহ রাখেন
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের একমাত্র চিকিৎসক মেডিসিন স্পেশালিস্ট ডা. কামরুল আজাদ বলেন, যেহেতু এ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন মেনিফোল্ড সিস্টেম আছে, তাই ‘হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা’ মেশিন ক্রিটিক্যাল করোনা রোগীদের জন্য অনেকটাই সাপোর্ট দেবে। যারা হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা মেশিন দিয়ে সহায়তা করছেন তাদেরকে তিনি ধন্যবাদ জানান এবং করোনা চিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্রে তারা উৎসাহ পান।
গত ৫ জুলাই গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ, সিভিল সার্জন ডা. মো. হুমায়ুন শাহিন খান এবং জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সোহরাব উদ্দিন খানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয় এই মেশিন। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন
সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে নিজ এলাকায় করোনার জটিল রোগীদের চিকিৎসা দেয়া অনেকটা সম্ভব হবে। ডাক্তারা অনেকটা উৎসাহ নিয়ে কাজ করতে পারবে।
বার্তা বাজার / ডি.এস