সাভারে ইমাম ও খতিবদের নিয়ে মতবিনিময় সভা

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইবাদত করা ও এডিস মশার বিস্তার রোধে করণীয় এবং আসন্ন কোরবানি ঈদ স্বাস্থ্যবিধি মেনে উদযাপন করার লক্ষ্যে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইমাম ও খতিবদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং সাভার উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদার উপস্থিতিতে এই সভা সম্পন্ন হয়।

ছবি : বার্তা বাজার

এব্যাপারে, এই মতবিনিময় সভার আয়োজক ‘মেডিকেল ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশন’ এর সভাপতি খন্দকার হাসিবুর রহমান লিমন বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এবং ডেঙ্গু সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সমাজে সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী ইমাম সাহেব গন। ডাক্তার মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা স্যার সবসময়ই বিশেষ করে স্বেচ্ছাসেবী, পল্লী চিকিৎসক, আলেম-ওলামাদের কথা উল্লেখ করলেও কখনো সরাসরি তাদেরকে দিক নির্দেশনা না দেওয়ায় আমি স্যারের কাছে ইমাম সাহেবদের সঠিক দিকনির্দেশনার ব্যাপারে আবেদন করি। আর তিনি এতে রাজী হলে বিভিন্ন এলাকা যেমন বনগাঁ ইউনিয়ন, কালিনগর, মজিদপুর, ইমান্দিপুর, শাহীবাগ, অন্ধ মার্কেট, সিটি সেন্টার, জালেশ্বর প্রভৃতি বিভিন্ন এলাকা থেকে ইমাম সাহেবদের আমি দাওয়াত দেই। তারা আমার ডাকে সাড়া দিয়ে প্রায় ৫০ জন ইমাম ও খতিব এই সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তাদের উপস্থিতিতে প্রোগ্রামটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

তিনি আরও জানান, সাভারে প্রায় ৭০ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস হওয়া সত্বেও দিনদিন এ আক্রান্তের হার কমছে। তার একমাত্র কারণই হচ্ছে জনসচেতনতা। আর এর মধ্য দিয়ে এই সফলতাকে ধরে রাখার জন্য সায়েমুল হুদা স্যার আমাদের বলেন যে আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং আমাদের এই সফলতাকে ধরে রাখতে হবে। পরে আমার মাথায় এই চিন্তাটি আসে যদি আমরা সফলতাকে ধরে রাখতে চাই এবং সারা বাংলাদেশের মধ্যে যতগুলো উপজেলা আছে এর মধ্যে সর্বপ্রথম আমরা নিজেদের কাছে চ্যালেঞ্জ হিসেবে আমরা সর্বপ্রথম সাভার উপজেলা করোনাভাইরাস মুক্ত করব ইনশাল্লাহ। সেই ইচ্ছায়ই আজকে আলেম-ওলামাদেরকে একত্রিত করা এবং সারা সাভারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অভ্যাসে পরিণত করতে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন।

এব্যাপারে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা জানান, জীবন জীবিকার তাগিদে মানুষকে ঘর থেকে বের হতে হবে। তাই আমরা যদি ‘মাইন্ড সেট-আপ’ করতে পারি যে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আমাদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবো, তাহলে বর্তমান মহামারির ভিতরেও আমরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবো। এক্ষেত্রে জীবন জীবিকা স্বাভাবিক করতে আমাদের তিনটি জিনিস মনে রাখতে হবে।

এগুলো হলো- সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা, সঠিক পদ্ধতিতে মাস্ক ব্যবহার ও সঠিক পদ্ধতিতে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া (২০ সেকেন্ড সময় ধরে)। আর এ সকল দিক নির্দেশনা তুলে ধরতে ইমাম ও খতিব সাহেবগণ অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন। আশা করবো এখানে উপস্থিত সকল ইমাম ও খতিব সাহেবগণ আগামী দিন জুমার বয়ানের মধ্যে এসকল দিকনির্দেশনা তুলে ধরে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করবেন।

এছাড়াও উক্ত সভায় কাফন-দাফন ও জানাজা কোনরকম আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন ও তার মধ্য দিয়ে পূর্ণ মর্যাদায় সম্পন্ন করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়।

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর