“বানত সোগে ভাসি গেছে, বাড়ি-ভিটা নাই মোর, ৭ দিন থাকি মানষের জমিত আছি, দুই বেটিক নিয়া খুব অভাবত আছং “কথাগুলো বলছিলেন ৩৮ বছরের লাইলি বেগম। দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে তিনি এখন অন্যের জমিতে পলিথিনের ঝুপড়ি বেঁধে বসবাস করছেন। স্বামী ছেড়ে দিয়েছেন বছর তিনেক হলো, তাই স্বামীর নাম বলতে চাইছিলেন না তিনি।
কান্না জড়িত কন্ঠে আরও বলেন, “দুই বেটিক কষ্ট করি পড়বারছি,এবারের বানত হামার সোগ ঘর ভাঙ্গি নিয়া গেছে ,খায়া-না খায়া হামার দিন যাবাইছে,কাইও এল্যা এক মুঠো চাউল দেয় নাই।” মোছাঃ লাইলি বেগম (৩৮) কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের তীরের ঢাউয়ারকুটি চরের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে এই চরে বসাবাস করলেও কখনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি বলেও জানান তিনি।

এবারের বন্যায় তার বসতভিটা-বাড়ি-ঘর সব কিছু দুধকুমার নদের গর্ভে বিলীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে কলেজ পড়ুয়া ২ মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছেন অন্যের জমিতে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সরেজমিনে দুধকুমার পাড়ে গিয়ে দেখা যায় পানি কমায় নিজের ভিটায় এসে খড়-কুটো কুড়াচ্ছেন তিনি। প্রথমে কথা বলতে ও ছবি তুলতে রাজি না হলেও,পরে কান্নার স্বরে রাজি হলেন কথা বলতে ও ছবি তুলতে। কারন তিনি আশা করেছেন এটে যদি তার কিছুটা উপকার হয়। লাইলি বেগমের দুই কন্যা।
বড় মেয়ে শাহানা পড়াশুনা করছেন নাগেশ্বরী কলেজে ডিগ্রী ফাইনাল ইয়ারে ও ছোট মেয়ে মৌসুমী পড়ছেন রায়গঞ্জ কলেজে ডিগ্রী ১ম বর্ষে। অন্যের বাসায় কাজ করে ও নিজের ছোট্ট হাস-মুরগী, ছাগল পালন করে মেয়ে দুইটিকে কষ্ট করে মানুষ করেছেন তিনি। এখন বাড়ি-ঘর হারিয়ে অনেকটা বিপর্যস্ত অবস্থায় তিনি।
লাইলি বেগমের ছোট মেয়েকে দুপুর ২টার সময় দেখা যায় পাশের ১টি পাট ক্ষেত থেকে পাট পাতা তুলতে,কথা হলে তিনি জানান,দুপুরের পাটশাক ভাজি করার কাজে লাগবে এই পাট পাতা।
লাইলি বেগমের প্রতিবেশী আব্দুল মান্নান বলেন,’আমাদের এই চরের গ্রামে ৮০-১০০টি পরিবার ছিলো সকলের বাড়ি-ভিটা দুধকুমার নদে বিলীন হয়ে গেছ। এখন পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি ভাবে কোন সহযোগিতা পাননি তারা।’
লাইলি বেগমের তথ্যনুযায়ী জানা যায়, তার ৩ টি ঘর ছিলো,ঘরের কিছু হাড়ি পাতিল ও খাট ছাড়া কিছুই রক্ষা করতে পারেননি তিনি। আকস্মিকভাবে নদের পানি তার ভিটে বাড়িতে ঢুকে পড়ে। লাইলি বেগমের মতো এই চরে আরো বাসিন্দা রয়েছেন যারা এখন ভিটে বাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশে নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
বার্তাবাজার/এমকে