মুন্সীগঞ্জ জেলা শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী ইউনিয়ন এখন ইয়াবা ব্যবসার নিরাপদ আখড়া। ভৌগলিকভাবে এলাকাটি প্রত্যন্ত হওয়ায় মাদক কারবারীরা অবাধে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের টার্গেট স্কুল কলেজের ছাত্র, কিশোর, উঠতি বয়সী যুবক ও প্রবাসীদের সন্তান।
ইউনিয়ের তীর্থ ঘাট, শ্রীধরপুর,খাহ্রা, মদনখালী,।কালাইমারা প্রতিটি পাড়া মহল্লায় রয়েছে মাদক সিন্ডিকেটের একাধিক এজেন্ট। হাসাড়া ইউনিয়ন আলমপুর থেকে শ্রীধরপুর গাবতলী এলাকা এখন মাদকের ওপেন স্পট।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাড়ৈখালী ১ নং ওয়ার্ড এলাকায় পাপ্পু নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। দৈনিক ১০০/২০০ পিচের অধিক খুচরা ইয়াবা বিক্রি করে। পাপ্পুর ইয়াবা সরবরাহ করে একই এলাকার বাদল মন্ডলের ছেলে পবিত্র মন্ডল (৩৪)। স্থানীয়দের অভিযোগ বাড়ির পাশেই সনাতন ধর্মের পবিত্র মন্দিরের পাশে বসে নিয়মিত ইয়াবা বিক্রি করে। সিন্ডিকেটটি এতোটা বেপরোয়া তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলে দল বল লেলিয়ে দেয়।
এছাড়াও আড়িয়াল বিল এলাকায় কয়েকজন বড় মাপের ডিলার রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। বাড়ৈখালী বাজার থেকে শিবরামপুর যাওয়ার মধ্যবর্তী স্হান, তিন রাস্তার মোড় অংশে রয়েছে আরেক ইয়াবা ডিলার। এখানে রাত দিন সমানতালে ইয়াবা বেচা বিক্রি চলে।
দিন যতো গড়াচ্ছে খাহ্রা, চুড়াইন, মদনখালী রাস্তার কিছু বিশেষ অংশে মাদক সেবীদের আনাগোনায় সন্ধ্যার পর এলাকাটি জন চলাচলে অনিরাপদ হয়ে উঠছে। মদনখালী ও কালাইমারা ব্রীজ এলাকাটিও মাদক বিক্রীর নিরাপদ আস্তানা।
শিবরামপুর হাট থেকে খাহ্রা যাওয়ার পথে মসজিদ এলাকায় রয়েছে এক মাদকের ডিলার। এই এলাকায় প্রশাসনের উর্ধ্বতন এক কর্তা ব্যক্তির নাম ভাঙ্গিয়ে মাদক ব্যবসা চালানোর অভিযোগ রয়েছে জনৈক মাদক ডিলারের বিরুদ্ধে। খাহ্রা ঝৃষি পাড়া ও আদর্শ ডিগ্রী কলেজের রাস্তাগুলোর দুপাশ যেন মাদক সেবীদের নিরাপদ আশ্রম। পার্শ্ববর্তী শেখর নগর ইউনিয়নের পাউসার কয়েকটি স্পট মাদক সেবীদের জন্য নিরাপদ স্থান।
করোনাকালীন সময়ে স্থানীয় প্রশাসন করোনা প্রতিরোধে ব্যস্ততার সুযোগে এলাকা গুলোতে নতুন মাদক ব্যবসায়ী গজিয়ে উঠছে। শ্রীধর পুর,আলমপুর ও ঘনশ্যামপুরের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই এলাকার ব্যবসার নিয়ন্ত্রক। এসব এলাকায় জনপ্রতিনিধিরা ভয়ে মুখ খোলার সাহস দেখাতে আগ্রহী নন।
এই বেসামাল পরিস্থিতে গড়পড়তা ছোট বড় অনেকেই আসক্ত হয়ে পড়ছে মরন নেশা ইয়াবায়। ঝড়ে পড়ছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী। আবার মাদকের টাকার যোগান দিতে এদলাকায় বাড়ছে চুরি ছিনতাইয়ের মত অপরাধ। দিন দিন গড়ে উঠছে অসংখ্য কিশোর গ্যাং।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রবীন রাজনীতিবিদ বলেন, গুটি কয়েক স্থানীয় কথিত রাজনীতিবিদের ছত্রছায়ায় এ সব মাদক বিক্রেতাদের আশ্র্য প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অল্পসময়ে এলাকায় প্রতিটি ঘরে ঘরে ইয়াবা ছোঁবল দেবে। তাই প্রশাসনকে এসব মাদক কারবারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
মাহমুদুল হাসান।
সভাপতি, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স সোসাইটি।
কে.এ.স/বার্তাবাজার