রেলমন্ত্রী এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন এমপি বলেছেন, ‘বিএনপি জামায়াতের আমলে রেলওয়েকে সংকুচিত করা হয়েছিল। রেলওয়েকে প্রসারিত না করে বিএনপি জামাত জোট সরকারের আমলে ভ্রান্তনীতির কারণে রেলকে সংকুচিত করেছিল।
তৎকালিন সময়ে রেল মন্ত্রনালয় যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের অধীনে ছিল কিন্তু সেই সময় আলাদা কোন বরাদ্দ ছিল না। অথচ ভারতের রেলওয়ে বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম রেলওয়েতে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে রেলওয়েকে আলাদা মন্ত্রনালয়ে রূপ দেয়। রেলওয়ে উন্নয়নের জন্য বহু প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।’
রেলমন্ত্রী বলেন, ‘বিরল স্থলবন্দরসহ উত্তরাঞ্চলের ১১ টি স্টেশনের আধুনিকায়নের কাজ চলছে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের সকল স্থলবন্দর নৌ-মন্ত্রনালয়ের অধীনে। আপনাদের এলাকার উন্নয়নের কান্ডারী জননেতা খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বিরল স্থলবন্দরকে এ সরকারের আমলেই চালু করবেন।
আজ সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২ টায় দিনাজপুর বিরল উপজেলার বিরল স্থলবন্দর পরিদর্শন উপলক্ষে স্থলবন্দর চত্বরে একসুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলমন্ত্রী এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন এমপি এসব কথা বলেন।
সুধী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা দেশের অভ‚ তপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। ২০০৯ সালে প্রথম সরকার গঠন করার পর তিনি ভারতে সফর করেন। তখন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মনমোহন সিং, তিনি সে সময় একটি সমঝোতা স্বাক্ষর করেছিলেন। সেই সমঝোতা স্বাক্ষরে তিনি বিরল-রাধীকাপুর রেল যোগাযোগের কথা সেখানে উল্লেখ করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুর তথা উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়-কাঞ্চন থেকে রাধীকাপুর পর্যন্ত ইতোমধ্যেই রেলপথকে মিটার গেজ থেকে ব্রোডগেজ লাইনে রুপান্তর করা হয়েছে। ২০১৩ সালের ২২ অক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনাজপুর গোড়-এ শহীদ বড় ময়দানে বিশাল জনসভায় এই স্থলবন্দরের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী বিরলে স্থলবন্দর তৈরি করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থলবন্দরের সড়ক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। স্থলবন্দরের পক্ষ থেকে বিরলের রাধীকাপুর স্থলবন্দরটি পোর্ট উন্নয়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই পোর্টের যারা দায়িত্বে আছেন আমরা তাদের তাগাদা দিয়েছি দ্রæত এই পোর্টের উন্নয়ন সাধন করার জন্য এবং কার্যক্রম শুরু করার জন্য।’
বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে সুধী সমাবেশে বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র সবুজার সিদ্দিক সাগরের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম, ৪২ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. রেজাউল করিম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বিরল স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন, পরিচালক ইকবাল চৌধুরী, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এ্যাডভোকেট মো. রবিউল ইসলাম রবি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রমাকান্ত রায়, ভান্ডারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশিদ মামুন, শহরগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যার আব্দুর রহমান মুরাদ প্রমুখ।
বার্তাবাজার/এমকে