“হামাক কাই দিবে চাউল,সকাল থাকি না খ্যায়া আছি। এল্যা সিনি ১ কেজি চাউল ধার করি আনি রান্না চরে দিছি”ছল ছল চোখে এভাবে কথাগুলো বলতেছিলেন চর সিতাইঝড়ের বাসিন্দা সাহেরা বেগম (৩৬)। তিনি বলেন,”আজ ৩ দিন থাকি বাঁধত আছি, বাড়ির চতুরপাকে পানি উঠছে।
সকাল থাকি ছওয়াগুলাক কিছু খাবার দিবের পাই নাই, এলা সিনে ১ কেজি চাউল ধার করে আনি, রানবের নাকচি।” সাহেরা বেগমের ৩ সন্তান, ২ মেয়ে ১ ছেলে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের ১ নং ওর্য়াডের চর সিতাইঝরের বাসিন্দা তিনি। তার স্বামী জাবেদ মিয়া একজন পেশায় কৃষক। বাড়িতে পানি উঠার কারনে সড়কের পাকা রাস্তায় প্লাস্টিক দিয়ে অস্থায়ীভাবে ৩ দিন থেকে রয়েছেন।
তারা জানান, হাতে কাজ না থাকায় কোনভাবে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন পরিবারটি। সরকারি-বেসরকারি সাহায্য না পাবারও অভিযোগ করেন সাহেরা বেগমের স্বামী জোবেদ মিয়া।
সাহেরা বেগমের কন্যা বার্তা বাজার কে বলেন,” সকালে ১ প্যাকেট বিস্কুট খাইছি,এখন ভাত রান্না করতেছে তারপর ভাত খাবো।” সাহেরার কন্যা যখন এই কথাগুলো বলতে ছিলো তখন ঘড়িতে বিকেল সাড়ে ৪টা। সাহেরা বেগমের মতো পাকা সড়কে আশ্রয় নেয়া আরো কয়েকটি পরিবারে দেখা যায় একি চিত্র। পরিবারগুলো সড়কে আশ্রয় নেয়ার কারণে খেয়ে-না খেয়ে কোনভাবে দিন অতিবাহিত করছে।
পরিবারগুলো অভিযোগ করে জানায়, যারা ত্রান দিতে আসছে তারা নৌকায় করে চরে যাচ্ছে,যার ফলে সড়কে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলো বঞ্চিত হচ্ছে ত্রান থেকে।
জেলাসদরের পাঁচগাছি ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন মুঠোফোনে জানান,তার ইউনিয়নের মানুষ পুরো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। সরকারি পর্যায়ে তিনি মাত্র ৪৫০ টি পরিবারের জন্য বরাদ্দ পেয়েছেন,যেখানে তার প্রয়োজন ৪ হাজার পরিবারের বরাদ্দ। এরকম কম বরাদ্দের কারনে অনেকে ত্রান পাচ্ছে না বলেও জানান তিনি। এদিকে, জেলা ত্রান ও পুর্নবাসন কার্যালয় সুত্রে জানা যায়,জেলায় বানভাসীদের জন্য এখন পর্যন্ত ৩০২ মেট্রিক টন চাল ও ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন তারা,সেগুলো বিতরনের কাজ চলমান রয়েছে।
জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা যায়, রবিবার (৫ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার এবং দুধকুমার নদীর পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বার্তাবাজার/এমকে