আজ সোমবার রাত ১১:২৩, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৮ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২রা সফর, ১৪৩৯ হিজরী

বিশ্বে অবাক করা কান্ড, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য যা করলেন বাংলাদেশের মেধাবী তরুণ জুয়েল !

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : মে ১৬, ২০১৭ , ১০:৫১ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : সফলতার গল্প
পোস্টটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি: সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে জুয়েল আহমেদ নামে এক বাংলাদেশী মেধাবী তরুণ টাংগাইলে ৪ টি অবৈতনিক ফ্রেন্ডশিপ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই তরুণ বাংলাদেশের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর আইন বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র। ২০১২ সালে জুয়েল আহমেদ একাদশ শ্রেণীতে পড়া অবস্হায় নিজ বাড়ি আদি টাংগাইলে ফ্রেন্ডশিপ স্কুল এর ১ম শাখাটি চালু করেন।

সেই সময় জুয়েল আহমেদ তার নিজের ও আশেপাশের এলাকার প্রায় ২৯ জন ঝরেপড়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে খুজে বের করে তার এ স্কুলে ভর্তি করান ও পড়ালেখা করার সুযোগ করে দেন। তার সাধ্য অনুযায়ীই এই শিশুদেরকে শিক্ষা উপকরণ দিতে থাকেন। তখন এই স্কুলে ৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষিকা পাঠদান করাতেন। স্বপ্নবান মেধাবী তরুণ জুয়েল আহমেদ ইংরেজি মাধ্যমের কয়েকজন ছাত্র পড়িয়ে যে সামান্য সম্মানী পেতেন, তা দিয়েই স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের অল্প কিছু সম্মানী তথা কোনরকমে স্কুলটি চালাতেন। বর্তমানে ফ্রেন্ডশিপ স্কুল এর ৪ টি শাখায় প্রায় ৪০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশু বিনাবেতনে পড়ালেখা করার সুযোগ পাচ্ছে। বর্তমানে ফ্রেন্ডশিপ স্কুল এর ৪ টি শাখায় ১৫ জন শিক্ষক – শিক্ষিকা রয়েছে।

জুয়েল আহমেদ আউটসোর্সিং, সাংবাদিকতা সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর রিসার্চ করে যে সম্মানী পান, তা দিয়েই তার এ স্কুলগুলো কোন রকমে চলছে। এত অল্প বয়সের তরুণ এই ধরনের শান্তিপূর্ণ কাজ করছে,যা সত্যিই বিস্ময়কর। বিশ্বশান্তি স্হাপনে এই তরুণের এ উদ্দোগকে একটি রোল মডেল হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এই তরুণের স্বপ্ন পর্যায়ক্রমে একদিন সমগ্র বাংলাদেশ ও বিশ্বের সকল সুবিধাবঞ্চিত শিশু মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। আসুন আমরা এই মেধাবী তরুণের স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে সকলেই এ বিষয়ে এগিয়ে আসি। বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহল বা সরকারের উধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে এই তরুণের স্বপ্ন তথা সমাজ খুব দ্রুত এগিয়ে যাবে। এজন্য এ নিউজটি আমরা দেশ ও দেশের বাইরের প্রত্যেকেই ব্যাপক আকারে শেয়ার করে ছড়িয়ে দেই এবং বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ মাথা উচু করে দাঁড়া করাই। আপনাদের একটি শেয়ার জুয়েল ভাই এর স্বপ্নকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করবে।

এ বিষয়ে টাংগাইল পৌরসভার মেয়র মো.জামিলুর রহমান মিরন বলেন যে, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে জুয়েলের এ উদ্দ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। আমি ফ্রেন্ডশিপ স্কুলের বিষয়ে খুবই আন্তরিক। তবে শুধু আমি একা না সমাজের সবাই এগিয়ে আসলে এই স্কুলগুলোকে টিকিয়ে রাখা তথা সর্বোত্র ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব।

টাংগাইলের জেলা প্রশাসক মো.মাহবুব হোসেন বলেন যে, এই তরুণ যে কাজ করছে, সত্যিই আমি তা দেখে বিস্মিত হয়েছি। আশা করি, জুয়েল সবাইকে নিয়ে একদিন সমগ্র বিশ্বে এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হবে।