টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় চোরাই মোটর সাইকেলসহ এক যুবলীগ নেতা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে উপজেলার মোকনা বাজার বনিক সমিতির কার্যালয়ের সামনে থেকে তিনি আটক হন।
গ্রেপ্তারকৃত যুবলীগ নেতার নাম আনিসুর রহমান। তিনি উপজেলার কোনড়া গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিনের ছেলে ও মোকনা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক। পুলিশের জানায়, তার বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগও রয়েছে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে যুবলীগের এই নেতা পানব পাচারের সাথে জড়িত। মোকনা ইউনিয়নের কোনড়া গ্রামের রহিমা বেগম নামের এক নারী নাগরপুর থানায় গত শুক্রবার এমন একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে জানা যায়, তার স্বামী নূরমোহাম্মদকে গত বছরের ডিসেম্বরে আনোয়ার সৌদি পাঠায়। পাঠানোর পর পরিবারের সাথে নূরমোহাম্মদ কোন যোগাযোগ করেনি। হঠাৎ দুই মাস পর বাড়িতে ফোন করে জানায় আনোয়ারের লোকজন আমাকে সৌদিতে একটি ঘরে বন্দি করে নির্যাতন করছে। আনোয়ারকে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে আমাকে তারা মেরে ফেলবে। তার পর থেকেই নূরমোহাম্মদের সাথে পরিবারের যোগাযোগ নেই। সে বেঁচে আছে না মেরে ফেলা হয়েছে এনিয়ে পরিবারের লোকজন শংকিত। পরে এনিয়ে আনোয়ারের সাথে এলাকায় সালিশী বৈঠকও হয়েছে। আনোয়ার বলেছে টাকা দিলেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
অভিযোগ পাওয়ার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাগরপুর থানা পুলিশ শুক্রবার রাতে উপজেলার মোকনা বাজারে অভিযান চালিয়ে বনিক সমিতির অফিসের সামনে থেকে আনোয়ারকে আটক করে। এসময় তার কাছ থেকে একটি চোরাই ১০০সিসি বাজাজ ডিসকভার মোটর সাইকেলসহ উদ্ধার করা হয়।
পরে নাগরপুর থানার সহকারি উপপরির্দশক (এএসআই) জহিরুল আলম বাদী হয়ে আনোয়ারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নাগরপুর থানার উপপরির্দর্শক নূরমোহাম্মদ জানান, আনোয়ারের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মামলা হয়েছে। মানবপাচারের অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে মানবপাচারের মামলা করা হবে এবং ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
বার্তাবাজার/এসজে