ময়মনসিংহের নান্দাইলে করোনা পরিস্থিতিতে মাংস দুধ, ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে খামারীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মোঃ উজ্জল হোসাইন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লোকবল সঙ্কটে থাকার পরও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এছাড়া উদ্দ্যোক্তাদের উৎসাহকরণ সহ মোবাইল ফোনে তাদেরকে সার্বক্ষণিক সেবা দিতে খুবই কর্ম তৎপর রয়েছেন।
পরিদর্শনে দেখাগেছে, করোনাভাইরাস সৃষ্ট দুর্যোগের মধ্যেই পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গবাদি প্রাণিগুলোকে মোটাতাজাকরণ সহ বিভিন্ন চিকিৎসা নিতে
প্রতিদিন অসংখ্য প্রান্তিক খামারীরা উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ে আসছে। সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চিকিৎসা, টিকাদান, কৃত্রিম প্রজনন, জরুরী
পরামর্শসহ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে ভেটেরিনারী সার্জন ডাঃ মোঃ উজ্জল হোসাইন।
এছাড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন প্রকল্পে মোট ৪২ জন স্টাফ নিয়মিত সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। তন্মধ্যে করোনায় জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে ভেটিরিনারী সার্জনের কর্মতৎপরতা বেশ প্রশংসিত। অফিস টাইম ব্যাতীত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তিনি সার্বক্ষণিক দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন খামারীদের।
গবাদী পশুর খামারী ফরিদ ও আলম মিয়া বলেন, “সরকারের প্রানি সম্পদ অধিদপ্তরের ভ্যাকসিনটা আমরা যদি সঠিক সময়ে পাই তাহলে আমাদের খুব ভাল হয়। তবে আগের চেয়ে সেবার মান এখন অনেক ভালো। করোনাক্রান্তিকালে পশু হাসপাতালকে ২৪ ঘন্টা জরুরী সেবার আওতায় খোলার রাখার জন্য সরকারের কাছে দাবী জানাই। তাহলে খামারীগণ আরো উপকৃত হবে।”
ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মোঃ উজ্জল হোসাইন জানান, “খামারীদেরকে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে। খামারীরা যদি না বাঁচে। তাহলে দুধ, ডিম ও মাংস
উৎপাদনে সারাদেশে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিবে। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লোকবল সঙ্কটে থাকার পরও উদ্যোক্তাদের দুয়ারে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদানের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। প্রাণী সম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সকল সেবা প্রদানকারীগণের অক্লান্ত পরিশ্রমে উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের সুনাম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি
খামারীরা সহ সাধারন মানুষ গবাদী পশু-পাখি পালনে বেশ সফলতা লাভ করছে।
নান্দাইল উপজেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মলয় ক্রান্তি মোদক বলেন, সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক আমরা দুধ,ডিম, মাংস উৎপাদনে চিকিৎসা সেবাসহ সকল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। তবে পর্যাপ্ত জনবল কাঠামো নিশ্চিত করতে পারলে আমরা দেশকে পর্যাপ্ত প্রাণীজ আমিষের যোগান দিতে পারব।
বার্তাবাজার/এসজে