সিরাজগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে হাঁক-ডাক দিয়েই চলছে শালুয়াভিটা পশুরহাটে কেনাবেচা। হাটে আগতদের চলাফেরা ও আচার আচরণ দেখে মনে হয় করোনা কিছুই না। স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। সরকারের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো প্রয়োজন নেই।
এমন পশুর হাটের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইজারদারদের মারধরের শিকার হয়েছেন ডিবিসি নিউজের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি রিফাত রহমান ও চ্যানেল আইয়ের ক্যামেরা পার্সন আশরাফুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শালুয়াভিটা হাটে এ ঘটনা ঘটে। এসময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ভাংচুর করা হয়। হামলার শিকার ডিবিসি’র জেলা প্রতিনিধি রিফাত রহমান বলেন, বিকেলে কোরবানির পশুর হাট নিয়ে প্রতিবেদন করার জন্য আমি ও চ্যানেল আইয়ের ক্যামেরা পার্সন আশরাফুল শালুয়াভিটা হাটে যাই। ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করার সময় অতর্কিতভাবে হেলাল, খলিলুর রহমান, সেরাজুল, মিজান, ইসমাইলসহ ইজারাদারের প্রায় ১৫/১৬ জন লোক আমাদের ঘিরে ধরে।

তারা জোরপূর্বক ক্যামেরা পার্সনসহ আমাকে টেনে হিঁচড়ে হাট কমিটির অফিস ঘরে নিয়ে যায় এবং সেখানে আটকে রেখে মারপিট করে। এক পর্যায়ে আমাদের কাছে থাকা ক্যামেরা ও মোবাইল ভাংচুর করে। মারপিট ও হেনস্থা করার পর প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আমাদের অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাটের পাশের স্থানীয় কয়েকজন বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এভাবে হাট চালিয়ে আমাদের সবাইকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। হাটে আসা কোনো একজন মানুষের মধ্যে যদি করোনা থাকে তাহলে সবার মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।আমরা সবাই বিপদে পড়ে যাব। হাটের ইজারাদারকে বিষয়টি বললেও তারা আমাদের কথায় কর্ণপাত করেন না।
সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রবিন বলেন, এ ঘটনায় রিফাত রহমান বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এটি একটি ন্যাক্করজনক ঘটনা আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি।
এ প্রসঙ্গে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, সাংবাদিককে মারপিটের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ হামলার সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেনো তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
কে.এ.স/বার্তাবাজার