যমুনায় বাড়ছে পানি, নিমজ্জিত হচ্ছে বাড়ি ঘর

সিরাজগঞ্জে টানা তিন দিন যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যা দুর্গত পানিবন্দী মানুষের। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল ও একই সময় কাজিপুর পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

ছবি:বার্তাবাজার।

যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এদিকে তিনদিন যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলে প্রতিদিনই মানুষের বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। পানিবন্দী মানুষদের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানির অভাবে তাদের দুর্গতি বেড়েই চলেছে।

বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদি পশুপাখি নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। কাজিপুরসহ অনেক এলাকার রাস্তা-ঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

এ অবস্থায় নিচু এলাকার মানুষ জন ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। করোনা পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে বন্যা মোকাবেলায় প্রাণ বাঁচাতে উঁচু কোনো জায়গায় গাদাগাদি করে অবস্থান নিতে হচ্ছে বান ভাসিদের।

সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, সিরাজগঞ্জ জেলা বন্যা কবলিত পাঁচটি উপজেলায় ১২৫ মেট্রিক চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৮ মেট্রিক টন, শাহজাদপুর উপজেলায় ৩২ মেট্রিক টন, কাজিপুর উপজেলায় ২৩ মেট্রিক টন, বেলকুচি উপজেলায় ২২ মেট্রিক টন ও চৌহালী উপজেলায় ১০ মেট্রিক টন।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদুল হক জানান, বরাদ্দপ্রাপ্ত ৩৮ মেট্রিক টন চালের মধ্যে সদর উপজেলার বন্যা কবলিত সাতটি ইউনিয়ন কাওয়াকোলা ইউনিয়নে ৫ মেট্রিক টন, মেছড়া ইউনিয়নে ৫ মেট্রিক টন, রতনকান্দি ইউনিয়নে ৪.৫ মেট্রিক টন, সয়দাবাদ ইউনিয়ন ৪ মেট্রিক টন, কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নে ৩.৫ মেট্রিক টন, খোকশাবাড়ী ইউনিয়নে ৩.৫ মেট্রিক টন ও ছোনগাছা ইউনিয়নে ৩.৫ মেট্রিক টন করে মোট ২৯ মেট্রিক টন দেওয়া হয়েছে।

শিয়ালকোল, বাগবাটি ও বহুলী ইউনিয়ন বন্যা আক্রান্ত না হলেও করোনা পরিস্থিতির জন্য ৩ মেট্রিক টন চাল প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে যমুনা নদীর সাথে পাল্লা দিয়ে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের জমিতে চাষ করা ভুট্টা, বাদাম, তিল, কাউন ও সবজি ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুল হক মুঠোফোনে বলেন, জেলার পাঁচটি উপজেলার চরাঞ্চলসহ ৩৫ ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে চাষ করা সবজিসহ নানা ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে কাজিপুরে বন্যার পানিতে ডুবে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

কেএস/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর