‘মায়ের একধার দুধের দাম, কাটিয়া গায়ের চাম/পাপশ বানাইলে ঋণের শোধ হবে না/এমন দরদি ভবে কেউ হবে না আমার মা গো…’। মাকে নিয়ে বিশিষ্ট গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীরের অত্যাধিক জনপ্রিয় এই গানটি বারবার মাকে মনে করিয়ে দেয়।
মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা আরও বাড়িয়ে দেয়। যার জন্য এই পৃথিবীর আলো দেখলে তাকেই তুমি চিননা! এমনই এক লোমহর্ষক কাহিনী সৃষ্টি করেছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের আমরদী গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক অাবু মোল্যার ছেলে হাফেজ বাকি বিল্লাহ্।
জানা যায়, বৃদ্ধ দম্পতির তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে বাকি বিল্লাহ্ বড় ছেলে। ছেলে কোরআনের হাফেজ হয়ে পিতামাতার মৃত্যুর সময় জানাজা পড়াবে, দোয়া করবে, পিতামাতাকে শ্রদ্ধা করবে; এমনসব স্বপ্ন নিয়ে ছেলেকে মাদ্রাসায় ভর্তি করেন।
অনেক কষ্টে অর্থোপার্জন করে ছেলেকে কোরআনের হাফেজ বানান। কিন্তু বৃদ্ধ হয়ে পিতামাতার সেইসব স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। ভক্তি-শ্রদ্ধার বিপরীতে বৃদ্ধ মাকে মেরে গলাধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেন হাফেজ পুত্র বাকি বিল্লাহ্।
এ বিষয়ে বৃদ্ধা মা আয়েশা বেগম বলেন, ‘স্বপ্ন দেখতাম আমার ছেলে হাফেজ-মাওলানা হলে আমাদের মৃত্যুর সময় জানাজা পড়াতে পারবে, আমাদের জন্য দোয়া করবে। কিন্তু এখন দেখি পেটে কালসাপ পুষেছি। আমার স্বামী বৃদ্ধ, অসুস্থ যেটুকু জমি ছিল তা পরের কাছে বন্ধক রেখে চিকিৎসা হচ্ছে। কোন কাজ করতে পারেনা। হাফেজ বাকি বিল্লাহ্ বেশ কিছুদিন ধরেই আমাকে মারধর করে গলাধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। আপনারা এর একটা সুষ্ঠু বিচার করে দেন।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাফেজ বাকি বিল্লাহ্’র বোন রিজিয়া ও সাবানা জানান, ‘সে শুধু মাকেই নয়, বাঁধা দিতে গেলে আমাদেরও মারধর করে। আমাদের বৃদ্ধা মাকে যেন আর না মারে, আপনারা সেই বিচার করে দিবেন।’
হাফেজ বাকি বিল্লাহ্ বর্তমানে ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার মনিকোঠা বাজারের নতুন সাহেবেরচর সমবায় নতুন জামে মসজিদে ইমামতি করেন বলে তার পরিবার থেকে জানা গেছে।
এ ঘটনায় হাফেজ বাকি বিল্লাহ্’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আমার মা বলেন আমার স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে। কিন্তু এই ১৭ বছর বিবাহিত জীবন সংসার থেকে কিভাবে স্ত্রীকে ছেড়ে দিব? এজন্যই মার সাথে বাকবিতণ্ডা বাঁধে। মনে হয় সে আমার সৎ মা।’
এলাকা সূত্রে ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন,’হাফেজ বাকি বিল্লাহ্ এত বড় বেয়াদব ও খারাপ যে, বছর দু’য়েক আগে ওর বাবাকেও মারধর করে চারটা দাঁত ভেঙে দেয়। বিষয়টি নিয়ে ওর মা আমার কাছে অনেকবার বিচার নিয়ে এসেছে। কিন্তু ও এতটাই খারাপ কারো কথাই শোনেনা।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মুন্নু মোল্যা বলেন, ‘ওরা আমাকে ভোট দিয়েছে ঠিকই কিন্তু ওই বাকি বিল্লাহ্ চরম বেয়াদব বলে আমি ওদের সালিশ বৈঠকে যাইনা।’
এদিকে সাংবাদিকদের লেখালেখির মাধ্যমে বাকি বিল্লাহ্’র বিচার দাবী করেন বৃদ্ধা মা আয়েশা বেগম ও বোন রিজিয়া ও সাবানা।
কেএস/বার্তাবাজার