নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের রামসাপুর মৌজার সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি থেকে অবৈধ্যভাবে এবং জোরপূর্বক মাটি কাটার অভিযোগে পাওয়া গেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মানিক হোসেনের বিরুদ্ধে।
ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে থানা পুলিশ বালু বোঝাই দুটি ট্রলার নৌকা ও একটি মোটর সাইকেল জব্দ করে থানায় নিয়ে এলেও তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এ নিয়ে ভুক্তভোগী ও সংখ্যা লঘুদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে কটকবাড়ী গ্রামের মৃত নরেন্দ্র নাথ মন্ডলের ছেলে অজিত চন্দ্র মন্ডলসহ এলাবাসী বলেন, শতাধীক বছর আগে থেকে রামসাপুর গ্রামের শৈলেন চন্দ্র মন্ডল পিতা মৃত ললিত চন্দ্র মন্ডল এর বংশধর ছোট যমুনার পূর্বে প্রায় ৪/৫ বিঘা জমিতে মেহগুনী, কড়াইসহ বিভিন্ন জাতের গাছপালা লাগিয়ে ভোগদখল করে আসছিলেন।
শনিবার সকালে বালুভরা গ্রামের মোবারক হোসেন মোল্লার ছেলে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মানিক হোসেন ৪০/৫০ জন লোকজন ও ৭টি ট্রলার নৌকা নিয়ে উক্ত জমির বাগানের পূর্ব ধারের মাটি এবং বাগানের ভিতরের মাটি জোরপূর্বক কেটে ট্রলার নৌকা বোঝায় করে নিয়ে যাওয়া শুরু করেন। এ সময় জমির মালিক ও ভোগ দখলকারীরা বাঁধা দিলে তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।
এ সময় মানিক হোসেন দাবি করেন, ছোট যমুনা নদীর বালু মহল ইজারাদার মফিজ উদ্দীনের কাছ থেকে ২৬ লাখ টাকা দিয়ে সাব লীজ নিয়েছেন। বালু তোলার জন্যে জন্য তাঁরা মাটি কাটবেনই। সেখানে বাধা দিয়ে কোন লাভ হবে না।
মৃত নলিক চন্দ্র মন্ডলের ছেলে শৈলেন মন্ডল ও অখিল চন্দ্র মন্ডল ২৭ জুন থানায় অভিযোগ করলে ২৮ জুন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসতে চেয়ে না আসায় পরদিন মানিকের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জন লোক ও ৭টি ট্রলার নৌকা নিয়ে এসে উক্ত জমির উপরে অবস্থিত বাগানের ভিতর থেকে আবারো মাটি কাটতে থাকে। এতে বড় বড় কড়াই ও মেহগুনী গাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ হুমকির মূখে পড়ে। ঐ স্থানে আর এক দিন মাটি কাটলে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি কড়াই গাছসহ কয়েকটি বড় বড় গাছ নদীতে পরে যেত।
শৈলেন মন্ডল ও অখিল চন্দ্র মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, থানায় খবর দিলে এসআই আব্দুল খালেক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বালু বোঝাই দুটি ট্রলার নৌকা ও একটি মটর সাইকেল জব্দ করে থানায় নিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেননি। এরপর পুলিশ দুটি ট্রলার নৌকা ও মটর সাইকেল থানা জব্দ করে নিয়ে গেলেও পরে সেগুলো ছেড়ে দেয়। এ নিয়ে তারাসহ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বদলগাছী উপজেলার ছোট যমুনা নদীর বালু মহল ইজারাদার মফিজ উদ্দীন বলেন, আমরা মাটি কাটিনি বালু কেটেছি আমি সরকারের কাছ থেকে লীজ নিয়েছি বালু মহল। বলু যেখানে থাকবে আমি সেখানেই বালু কাটতে পারবো। বালু যদি কারো বাড়ির ভিতরে থাকে সেটাও সরকারের সম্পত্বি। এছাড়াও যে বিষয় নিয়ে আপনি কথা বলছেন সে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে কথা হয়েছে তারা মাপযোগ করে সীমানা নির্ধারণ করে দিবেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহারুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বালু মহল লীজ গ্রহিতা আমাদের কাছ থেকে বালু মহলের পয়েন্টগুলো বুঝে না নিয়েই তারা বালু উত্তোলন করছেন। তিনি আরো বলেন, যেখানে সেখানে এলোপাতারি ভাবে বালু উত্তলোন করা যাবে না। দুটি ট্রলার নৌকা ও মোটরসাইকেল জব্দ করা বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এ বিষয়ে থানা পুলিশ ভালো বলতে পারবেন।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ চেীধুরী জোবায়ের আহাম্মদের বলেন, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মানিকগং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। মানিক হোসেন সাব লীজ গ্রহীতার বালু মহলের সাথে অভিযোগকারীদের জমি একই সাথে রয়েছে। সীমানা নির্ধারণ না হওয়ায় দুটি ট্রলার নৌকা ও একটি মোটরসাইকেল থানায় নিয়ে এলেও পরে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাঃ আবু তাহির এ বিষয়ে কিছুই জানেন বলে দাবি করেন।
বার্তাবাজার/এমকে