পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের আরামগঞ্জ গ্রামের আরামগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মানে অনিয়ম ও নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারে বাধা দেওয়ায় ঠিকাদারের উপস্থিতিতে নির্মান শ্রমিকদের হাতে এক শিক্ষক লাঞ্চিত ও তার পুত্রকে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার দুপুর ১২টায় ঘটনাটি ঘটেছে। ঠিকাদার ও শ্রমিকদের হাতে শিক্ষক লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ সৃস্টি হয়েছে। এঘটনায় উত্তেজিত গ্রামবাসী শ্রমিকদের উপরে চরাও হয়। সহকারি শিক্ষক মো. আয়ুব আলী জানায়, পিডিবি-৪ প্রকল্পের আওতায় আরামগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মান কাজ শুরু হয় তিন মাস আগে। দীর্ঘদিন ধরে নিন্ম মানের সিমেন্টসহ অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ভবন নির্মান কাজ করছিলো।
শনিবার ১২ টার সময় বিদ্যালয় ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে। ঢালাইয়ে বালু ছয় ফারা, পাথর ছয় ফারা এবং পুরাতন ও নিন্মমানের সিমেন্ট এক ব্যাগ দিয়ে ঢালাই মিক্সার মেশিনের মাধ্যমে মিক্স করে বিদ্যালয়েল ছাদ ঢালাই করছিলো। প্রকৃত পক্ষে বিদ্যালয়ের ছাদ ঢালাইয়ের জন্য চার ফারা পাথর, দুই ফারা বালু এক ব্যাগ সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই দেওয়ার কথা। এই নিন্মমানের ঢালাই কাজের প্রতিবাদ করায় ঠিকাদার নুরুল আলম এর উপস্থিতিতে নির্মান শ্রমিক মো. এরশাদের নেতৃত্বে হামলা চালায়। পিতাকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলার শিকার হয় পুত্র মো. তারেক আমীন সুমন (২৫)।
এতে শিক্ষক পুত্রের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। আহত শিক্ষক আয়ুব আলীকে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং শিক্ষক পুত্র তারেক আমীন সুমন কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঠিকাদার মো. নুরু মিয়ার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানায়, ঢালাই কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষক ও শিক্ষক পুত্রের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে। তবে তারা ও গ্রামবাসী আমাদের শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে এবিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা চলছে।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমান জানান, নিন্মমানের কাজ করা নিয়ে শিক্ষক লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনা শুনে তাতক্ষনিক নির্মান কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি আমি নিজেই সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।