করোনা ভাইরাস সংক্রমনের মধ্যেও মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর বাজারে সাপ্তাহিক গরুর হাট মিলেছে। উপজেলার ঐতিবাহী এ হাটে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। সপ্তাহের প্রতি শনিবার এ হাট বসে আসছে।
এ হাটে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য বিধি। মাস্ক ব্যবহার করছেন না অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতা। হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিংবা জীবানুনাশক স্প্রে পর্যন্ত ব্যবহারের ব্যবস্থা দেখা যায়নি এ হাটে। এ অবস্থায় বালুচর গরুর হাট করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত বালুচর বাজার গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে মাস্ক ছাড়াই ক্রেতা সাধারণ গরু কিনতে ঘুরাঘুরি করছেন। অনেক বিক্রেতাই ব্যবহার করছেন না মাস্ক। গাদাগাদি করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে গরু কেনাবেচার ধুম পড়েছে এ হাটে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার লেশমাত্র দেখা যায়নি হাটের কোথাও। গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের।
স্বাস্থ্য বিধি মানার কোনো বালাই ছিল না এ হাটে। আবার স্বেচ্ছাসেবক কোনো টিম না থাকায় স্বাস্থ্য বিধি মানার জন্য দিক-নির্দেশনাও দিতে দেখা যায়নি কাউকে। এমনকি হাটের ইজারাদারের পক্ষ থেকেও স্বাস্থ্য বিধি কিংবা সামাজিক দুরত্ব মানার জন্য কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি হাটে। এমন পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাস সংক্রমনে ঝুঁকির মধ্যেই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ হাটে কেনাবেচা চলে।
মো. শহীন নামে এক ক্রেতাকে মাস্ক ছাড়াই হাটের সর্বত্র ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে ওই ক্রেতা বলেন, মাস্ক পকেটে আছে। প্রচন্ড গরম সহ্য করতে না পেরে মুখের মাস্ক পকেটে রেখে দিয়েছি। বিক্রেতা আমির হোসেন বলেন, করোনার জন্য জীবন থেমে থাকবে না। আল্লাহ্ যদি মৃত্যু লিখে থাকনে, তবে মৃত্যু হবেই। মাস্ক আছে আমার পকেটে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ের কারনে প্রচন্ড গরম। তাই মুখে মাস্ক পড়তে কষ্ট হওয়ায় পকেটে রেখেছি।
বালুচর গরুর হাটের ইজারাদার আলেক চান মুন্সী বলেন, মাইকের মাধ্যমে হাটে সমাগম ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে কেনাবেচা করতে বলা হয়েছে। কিন্তু কেউ তো কোনো ভাবেই সেই কথা শুনছেন না। সামাজিক দুরত্ব মানছেন না। তাছাড়া অনেক দিন পর সাপ্তাহিক এ হাট বসেছে। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করে আসছি যাতে ক্রেতা-বিক্রেতা সকলেই সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে কেনাবেচা করে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশফিকুন নাহার বলেন, স্বাস্থ বিধি মেনে হাট পরিচালনা করতে হবে। হাটে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে, যাতে করোনা ভাইরাস সংক্রমন না বাড়ে। ইজারাদারকে বলে দিব যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট পরিচালনা করেন। অতি শিগগিরই গরুর হাট পরিদর্শন করবো। যদি কেউ স্বাস্থ্য বিধি অমান্য করে তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
বার্তাবাজার/এমকে