বিদ্যুৎ অফিসের খামখেয়ালীতে মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করছে এক শ্রমিক

ঘাটাইল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরন বিভাগের হটকারিতা ও খামখেয়ালীর ফলে বিদ্যুৎ পিষ্ট হয়ে চার দিন যাবত মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করছে মাস্টাররোলে চাকুরী করা এক শ্রমিক। তার নাম খন্দকার হায়দার আলী (৪৫)।

সে পোড়াবাড়ী গ্রামের খন্দকার সোহরাব আলীর ছেলে। হায়দর আলী বর্তমানে টেপিকুশারিয়া শ্বশুর বাড়ীতে বসবাস করে। তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। বর্তমানে ঢাকা উত্তরা ১১নং সেক্টরে আল-আশরাফ প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এলাকার সরেজমিনে গেলে ঐ ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আঃ বাছেদ, গৌরিশ্বর গ্রামের জিন্নত আলী, আঃ হালিম, বাদশা মিয়া, আক্তার হোসেন ও প্রত্যক্ষদর্শী হায়দর আলী ও আবু সাইদ জানায় ঘটনার দিন রাত ৯ টা পর্যন্ত শ্রমিক হায়দর আলী তার ঘরেই শোয়া ছিল। ঐদিন এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার ফলে অফিস থেকে মোবাইলে ডেকে হায়দার আলীকে লাইন মেরামতের দায়িত্ব দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী হায়দর আলী আরো জানায় এ নিয়ে তাদের মধ্যে অফিসের সাথে একাধিকবার কথাও হয়। পরে আনুমানিক ১০.০০ ঘটিকার সময় হায়দার আলী ১১ হাজার লাইনে কাজ করতে যায়। কিছুক্ষন পর কোন প্রকার যোগাযোগ ছাড়াই অফিস থেকে লাইনে সংযোগ দেয় যার ফলে সট করে প্রায় ২৫ ফুট উপর থেকে মাটিতে ফেলে দেয়।

তার গায়ে আগুন লেগে প্রায় ৮০ ভাগ পুড়ে যায়। পরে এলাকাবাসী প্রথমে ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা উত্তরা ১১নং সেক্টরের আল-আশরাফ প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন তার মাথা ও মুখ অপারেশন করে আইসিসিতে রাখা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায় হায়দর আলী বর্তমানে নড়াচড়া সহ তাকিয়ে কথা বলার চেষ্টা করতে পারে। এলাকাবাসীর অনেকের অভিযোগ অফিস ইচ্ছা করেই হায়দার আলীকে মারার জন্য এমন বেইআইনী কাজ করেছে।

এসব বিষয়ে ঘাটাইল বিদ্যুৎ অফিসে খোজ নিতে গেলে সেখানে এক ধ্রুমজালের সৃষ্টি হয়। ঐদিন কন্ট্রোল রুমে ডিউটিরত অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী আঃ হালিম এর নিকট জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমার ডিউটিরত অবস্থায় লাইন মেরামতের জন্য কোন শার্টডাউন দেওয়া হয় নাই। তাহলে কিভাবে শার্টডাউন ছাড়া ১১ হাজার লাইন কাজ করতে গেল এমন প্রশ্ন করে শার্টডাউনের খাতা দেখতে চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করে বলেন আমাদের অফিসে শার্টডাউন এন্ট্রি করা হয় না।

ঐদিন ডিউটিরত লাইনম্যান খলিলুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার শরীর অসুস্থ থাকায় আমি ঐদিন অফিসে ছিলাম না। পরে লাইম্যানের সাহায্যকারী আবু ইউসুফের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

ঐদিন ডিউটিরত লাইনম্যানের অপর সাহায্যকারী জরিপ তালুকদারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি কিছু বলব না। এক্সচেঞ্জ স্যার সব বলবে।

এসব বিষয়ে ঘাটাইল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরন বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মিলন আকন্দের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন যাদের ঐদিন ডিউটি ছিল তারাই ভাল বলতে পারবে তবে এটা একটা দুর্ঘটনা।

পরে এসব বিষয়ে ছামানা বাজার ফিডারের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রাসেল এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি ঘটনার দিন অফিসে ছিলাম না। ঢাকা টঙ্গীতে অন্য কাজে এখনো ব্যস্ত আছি।

সর্বশেষ ঘাটাইল বিদ্যুৎ বিক্রয় বিতরন ও বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম খানের নিকট ডিউটি রোস্টার ও শার্টডাউনের খাতা দেখতে চাইলে তিনি অনিয়মের পক্ষে সাফাই গেয়ে খাতা না দেখিয়ে বলেন, হয়তোবা পল্লী বিদ্যুৎ এর সাথে গ্রাহকের লাইন সংযোগের কারনে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে কাজের স্বার্থে আমাদের অনেক কিছুই করতে হয়।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর