করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে কঠোর লকডাউনের কারণে রাজশাহীতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো হাতেগোনা। আক্রান্ত কম থাকলেও রাজশাহী এখন করোনার হটস্পট।
প্রতিদিন যে হারে রোগী বাড়ছে, তাতে সামনের দিনগুলোতে হাসপাতালে আইসিইউ-ভেন্টিলেটর সংকট দেখা দেবে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
তবে, ঈদুল ফিতরের পর লকডাউন তুলে নেয়ার পর থেকেই জেলায় বাড়তে শুরু করে আক্রান্তের সংখ্যা।
নমুনা পরীক্ষায় এখন তিনজনের একজনই করোনা পজেটিভ। কিন্তু রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর আছে মাত্র ১৫টি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা রোগীদের জন্য দক্ষ জনবলসহ হাসপাতালে আইসিইউ বাড়ানোর বিকল্প নেই।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. চিন্ময় দাস বলেন, এটি ব্যয়বহুল বিষয়, সব জায়গায় সরবরাহ করা সম্ভবও না। তবে বড় বড় হাসপাতালগুলোতে নিয়ম অনুযায়ি যত দ্রুত সম্ভব এটি সরবরাহ করতে হবে।
আইসিইউর ঘাটতি থাকলেও অক্সিজেন সরবরাহ পর্যাপ্ত আছে বলে জানিয়েছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, আমাদের যে পরিমান আইসিইউ আছে তা দিয়ে এখন যে রোগী সংখ্যা আছে তাদের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব, তবে রোগীর পরিমান বাড়তে থাকলে আমাদের এর সংখ্যাও বৃদ্ধি করতে হবে।
এ অবস্থায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে বলে জানান সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
তিনি বলেন, এখানে বিভাগীয় হাসপাতাল ছাড়া জেলা বা সদর পর্যায়ের কোন হাসপাতাল নেই। তাই চাপটাও বেশি। যদি হঠাৎ করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায় এবং তাদের ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দিতে হয় সেক্ষেত্রে আমাদের তেমন সক্ষমতা নেই।
শুক্রবার পর্যন্ত জেলায় ৪৭৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৩১ জনই সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি