যশোরের বেনাপোলে প্রেমিকার ফেসবুক আইডিতে আত্নহত্যার হুমকী পেয়ে শামিনুর রহমান (২৮)নামের এক প্রেমিক যুবক সংবাদ সন্মেলন করেছেন।
শনিবার(২৭শে জুন) বন্দর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রেমিক শামিনুর।
নারায়নপুর নিবাসী প্রেমিক শামিনুর ঘটনার বর্ননায় জানান,২০১৭ সালে পড়াশোনা করাকালীন সময়ে ধান্যখোলা গ্রামের মোঃ মনির হোসেন ন্যাদার কন্যা মহুয়া আক্তার মনিরা (২১) এর সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৩ বছর অতিবাহিত হলে সম্পর্ক গভীরে রুপ নিলে দুই জনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সিন্ধান্ত নেন তারা।
বর্তমানে মহুয়া যশোর মহিলা কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যায়ন রত রয়েছে।সাম্প্রতি মহুয়া বিবাহের জন্য শামিনুরকে চাপ দেয় ও তার অভিভাবক কে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে বলেন।
সে অনুযায়ী শামিনুরের অভিভাবকরা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে মহুয়ার বাসায় গেলে মহুয়ার অভিভাবকরা ১ সপ্তাহ পর তাদেরকে মিলিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
শামিনুরের পিতা পরমানিক হওয়ায় মহুয়ার পিতা ছলনার আশ্রয় নিয়ে ঝিকরগাছায় মহুয়ার অসন্মতিতে বিবাহ ঠিক করেন।মহুয়া বিষয়টি আঁচ করতে পেরে শামিনুরকে গত ২৫ জুন মোবাইলে একাধিক বার ফোন কল ও এস এম এস করে জানায়। শামিনুর তার অভিভাবক ও বন্ধুদের দিয়ে মহুয়ার পিতা—মাতাকে বিষয়টি জানায় ও তাদের মিলিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিভাবকরা মহুয়াকে মারধরসহ ঘরবন্ধি করে রাখেন। মহুয়ার চাচাতো ভাই সোহেল শামিনুরকে হুমকি দেন ও শামিনুরকে যোগাযোগ রাখতে নিষেধ করেন।
২৭শে জুন শনিবার সকালে মহুয়া আক্তার মনিরা নামের ফেসবুক প্রোফাইলে শামিনুর ও মহুয়ার একসাথে ধারনকৃত ছবি পোস্ট দিয়ে অঘটন ঘটানোর (আত্নহত্যা) হুমকি দেন প্রেমিকা মহুয়া। বিষয়টি শামিনুরের দৃষ্টি গোচর হলে পুনরায় মহুয়ার পিতাকে জানান শামিনুর। মহুয়ার পিতা শামিনুরের ফোন কলে রেগে গিয়ে থানায় মামলা করার হুমকি দেন। শামিনুর লোক মারফত জানতে পারে মহুয়ার পিতা তাকে মিথ্যা মামলাসহ গুম—খুঁনের পরিকল্পনা করছেন। তাৎক্ষনিক শামিনুর বেনাপোল পোর্ট থানায় স্ব—শরীরে হাজির হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা যায়। মহুয়ার অভিভাবক কর্তৃক চক্রান্ত ও মানহানির আশঙ্কা থেকে শনিবার দুপুর ১ টায় সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে প্রেমিকা মহুয়ার পরিবারের কাছে দুটি ভবিষ্যত জীবন নষ্ট না করার অনুরোধ জানান প্রেমিক শামিনুর।
সংবাদ সন্মেলনে শামিনুরের অভিযোগ ও দাবীর বিষয়ে মহুয়ার পিতা এবং চাচাতো ভাই সোহেলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তারা জানান, শামিনুর অনবরত মহুয়াকে ডিস্টার্ব করে। এ নিয়ে আপনারা থানায় অভিযোগ করেন নি কেন- এমন প্রশ্নে রেগে গিয়ে সংযোগ কেটে দেন তিনি।
বার্তা বাজার / ডি.এস